রাজধানীতে ফেনসিডিলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- পুলিশের দাঙ্গা দমন বিভাগের কনস্টেবল সুয়েজ খান ও মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার রাতে ফকিরাপুল, ডেমরা ও খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় মোট ৪৫ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পিস্তল। গ্রেপ্তার চার জনকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এনামুল হক মিঠু সমকালকে বলেন, 'গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এরপর গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে তাদের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।' 

পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে ফকিরাপুল থেকে কনস্টেবল সুয়েজ খান ও লিজা বেগমকে ১৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য মতে, খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে কনস্টেবল আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছে পাওয়া যায় পাঁচ বোতল ফেনসিডিল। এরপর তার তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে ডেমরায় অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেনসিডিল ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ শিবলি আহমেদ খান নামের তাদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মতিঝিল, ডেমরা ও খিলগাঁও থানায় অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা করা হয়। মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমে অপরাধী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলে তাদের ব্যাপারে কোনো শিথিলতা দেখানো হয়নি। বরং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তাদের সাজা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কতদিন ধরে মাদক ব্যবসায় যুক্ত, এর সঙ্গে আরও কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত কি-না তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অনুরূপ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।