সালাম না দেওয়ায় কিশোর গ্যাং 'ব্যান্ডেজে'র সদস্যদের হাতে খুন হয় ১৬ বছর বয়সী মো. হাসান। সিনিয়র-জুনিয়র নির্ধারণ নিয়ে বিরোধে রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত সাত কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্যদিকে কদমতলীর পূর্ব জুরাইনে পুলিশের সোর্স জাকির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে। রাজধানীতে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তারা।

কদমতলী থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- মো. শুক্কুর, নুরুল ইসলাম স্বপন, রতন ওরফে সোলাইমান ওরফে রেম্বো, শফিকুর রহমান ওরফে দিপু, ফাহিম হাসান তানভীর ওরফে লাদেন, তরিকুল ইসলাম তারেক ও মাসুদ পারভেজ। মুগদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই কিশোর।

দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মুগদায় কিশোর হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ব্যান্ডেজ গ্রুপের সদস্যরা। এ ঘটনায় মুগদা থানায় একটি মামলা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে জড়িত সাতজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সালাম না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোর হাসানকে হত্যা করা হয়।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, কিশোর গ্যাং মাঝেমধ্যেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। পুলিশও তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মূলত নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা এই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। করোনার কারণে লকডাউনের সময় এসব গ্যাং নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন আবার তাদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। কেউ সালাম দিচ্ছে না বা সামনে সিগারেট খাচ্ছে- এমন তুচ্ছ ঘটনায় খুনোখুনি হচ্ছে। এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে এলাকার সচেতন নাগরিকদের। কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে বিট পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত হাসান একটি ছাপাখানার কর্মচারী ছিল। সে পরিবারের সঙ্গে মান্ডার সাবেদ আলীর বাসায় ভাড়া থাকত। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভারারা গ্রামে।

এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব জুরাইন কলেজ রোডের নবারুণ গলির মাথায় পুলিশের সোর্স জাকির হোসেনকে বুকে-পেটে ছুরিকাঘাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার সঙ্গী মজিবর রহমান ওরফে মোহনও গুরুতর আহত হন। পরে কদমতলী থানায় একটি মামলা হয়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার জানান, হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী জোনাল টিম। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে তারা দু'জনের ওপর হামলা চালায়। তাদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।