পনেরো লাখ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সব ধরনের আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এ প্রকল্পকে বলা হচ্ছে পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের। রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ রকম দাবি করা হলেও মানের অনেক কিছুতেই ঘাটতি রয়ে গেছে। বাস্তবে আন্তর্জাতিক মানের তো নয়ই, এমনকি রাজউক যে ভিত্তিকে মানদণ্ড ধরে আবাসন প্রকল্পের নীতিমালা তৈরি করেছে, সেটাও অনুসরণ করা হয়নি।
কেবল পূর্বাচল উপশহরের ক্ষেত্রেই নয়, রাজউকের বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প, উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) প্রকল্প ও উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কোনোটিতেই মানদণ্ড ছিটেফোঁটা অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া আগে বাস্তবায়িত উত্তরা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বেও মানদণ্ড একেবারেই অনুসরণ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, 'দুঃখের বিষয় কী বলব, রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১৫ হাজারের মতো ফ্ল্যাট তৈরি হবে। এক হাজার ৬২০ বর্গফুটের প্রতিটি ফ্ল্যাটে গড়ে ছয়জন করে বসবাস করলেও সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষ বাস করবে। অথচ সেখানে স্কুল আছে মাত্র একটি। সেটাও একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাহলে ওখানকার বাচ্চারা পড়বে কোথায়? আর সবার কি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া সম্ভব? আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও অনেকে সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াতে চাইবেন না। তাহলে তার সন্তান পড়বে কোথায়?'
তিনি বলেন, রাজউকের আবাসন প্রকল্পগুলোতে এ রকম অনেক গোজামিল দেওয়া হয়েছে। যে সংখ্যক স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার কথা, সেটা রাখা হয়নি। উন্মুক্ত স্থান, পার্ক ও খেলার মাঠেরও স্বল্পতা রয়েছে।
রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে মানদণ্ড ঠিক রেখে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দিন যতই যায়, ততই উন্মুক্ত স্থান, পার্ক বা স্কুলের জায়গা কমিয়ে প্লট বানানো হয়েছে। এভাবে পূর্বাচল প্রকল্পে পাঁচবার লে-আউট প্ল্যান সংশোধন করা হয়েছে। এ নিয়ে বহু ঝামেলাও হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) এ নিয়ে মামলা করে। পরে আদালত নির্দেশ দেন, এখন কোনো পরিবর্তন করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু তত দিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপশহর বা পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার জন্য রাজউকের একটি মানদণ্ড রয়েছে। ৫০ একরকে একটি ইউনিট ধরে সেখানে সাড়ে ১২ হাজার মানুষের বাসস্থানের কথা বলা হয়েছে ওই মানদণ্ডে। প্রতি ইউনিটে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে তিনটি, হাই স্কুল থাকবে দুটি, পার্ক থাকবে দুটি ও দেড় একর এলাকায় থাকবে জলাধার। খেলার মাঠ থাকবে তিনটি। কমিউনিটি সেন্টার থাকবে দুটি। কমিউনিটি ক্লাব থাকবে দুটি। এভাবে নাগরিক সুবিধা, চিত্তবিনোদনসহ সব ধরনের বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে মানদণ্ডে। কিন্তু রাজউকের চলমান তিনটি প্রকল্পের কোনোটিতেই তা অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি ডাকটাইল লেনের (একটি বড় পাইপের মধ্য দিয়ে পানি, স্যুয়ারেজ, ইন্টারনেট, টেলিফোন, কেব্‌ল টিভি লাইন, বিদ্যুৎসহ সেবা সুবিধা সরবরাহ ব্যবস্থা) মাধ্যমে নাগরিক সেবা সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও পূর্বাচলে সেটা অনুসরণ করা হয়নি। পূর্বাচলে বিদ্যুতের লাইনও দেওয়া হচ্ছে খুঁটি দিয়ে।
রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ প্রকল্পের শুরুতেই প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হয়নি। শুরুতে নার্সারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রাখা হয় ১৮২টি। অথচ সেখানে প্রয়োজন ছিল ২৪০টি। সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাখার কথা ছিল ৩৬০টি। সেখানে রাখা হয় ২৯৯টি। মাঠ রাখার কথা ছিল ২৪০টি। রাখা হয় ১৩৭টি। আর যেখানে পার্ক রাখার কথা ১২০টি, রাখা হয় ৬১টি। এভাবে ৭২০ একর জায়গায় জলাধার রাখার কথা ছিল। সেখানে রাখা হয় ২৬০ একর। এভাবে অনেক কিছু কর্তন করে পরিকল্পনা করা হয়। তারপর পাঁচবার লে-আউট প্ল্যান সংশোধন করা হয়। প্রতিবারই এসব সুবিধা আরও কমানো হয়। সর্বশেষ পূর্বাচল উপশহরে মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২টি। অথচ চতুর্থ সংশোধনীতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫৭টি। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ১৫ লাখ মানুষের বসতি ধরে রাজউক পূর্বাচলের পরিকল্পনা করেছে। এখন সেখানে পাঁচ লাখ মানুষের নাগরিক সুবিধা রাখা হয়েছে। অথচ পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মনিরুল হকই বলছেন, বর্তমানে ১৫ লাখ মানুষের বসবাসের কথা বলা হলেও এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে তিনি বলেন, কিন্তু ঢাকা শহরের অন্যান্য জায়গার অবস্থা কী? সেখানে কি প্রয়োজনীয় স্কুল-কলেজ-পার্ক-মাঠ আছে? বরং সে তুলনায় পূর্বাচলে অনেক বেশি স্কুল-কলেজ থাকবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের পরিকল্পনা তো রাজউক একা করেনি। রাজউকের সঙ্গে কনসালট্যান্ট ছিল। কনসালট্যান্টেরও দায় আছে।
পূর্বাচলের কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান ডাটা এক্সপার্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী জাহাঙ্গীর কবির এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। কিন্তু ২০০৪ সালে যে নীতিমালা ছিল, পরে তা সংশোধন করা হয়। আমি ২০০৪ সালের নীতিমালা অনুসরণ করেই পূর্বাচলের পরিকল্পনা করেছিলাম। পরে রাজউক অনেক কিছু কাটছাঁট করে এসব করেছে। আমি কনসালট্যান্সি করি। আমি স্কুলের সংখ্যা কমালে আমার লাভ কী? আমি সঠিক মানদণ্ড ধরেই করেছিলাম। বাস্তবতা হলো, রাজউক চাইলে কনসালট্যান্টের কিছু করার থাকে না।
একই চিত্র উত্তরা তৃতীয় পর্ব, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প ও ঝিলমিল প্রকল্পেও ঘটেছে। উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হাফিজুল ইসলাম বলেন, তৃতীয় পর্বে সাত লাখ মানুষ বসবাস করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই সময় পরিকল্পানায় সব কিছুই রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরে একটু ঝামেলা হয়ে গেছে।
উত্তরা তৃতীয় পর্ব তৈরি হয়েছে ২০০৮ একর এলাকাজুড়ে। সেখানে প্লট আছে দুই হাজার ২৮৫টি। কিন্তু ওই প্রকল্পেও যেসব উপযোগ থাকার কথা, তার অর্ধেকও নেই। এ সম্পর্কে উত্তরা তৃতীয় পর্বের সদ্য সাবেক প্রকল্প পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, অভিযোগ যে মিথ্যা, তা বলব না। আবার পুরোপুরি সত্য, তাও বলব না। কারণ, প্রকল্পে যে পরিমাণ জলাধার থাকার কথা, সেটা নেই। পূর্বাচল প্রকল্পেও মানদণ্ড অনুযায়ী জলাধার নেই। তবে পূর্বাচলের পাশে কিন্তু বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী আছে। একইভাবে উত্তরা তৃতীয় পর্বের পাশেও তুরাগ নদ আছে। কাজেই জলাধার যদি একটু কমিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আবার পূর্বাচলে একটি সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। সেটাকে প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলে তখন সবুজের পরিমাণ মানদণ্ডের কাছাকাছি চলে আসে। তিনি আরও বলেন, উত্তরা তৃতীয় পর্বে মেট্রোরেলের জন্য কিছু জায়গা নিয়ে গেছে। ওই জায়গায় যারা প্লট পেয়েছিলেন তাদেরও তো প্লট দিতে হবে। এটাও একটা সমস্যা।
এদিকে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১৫ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট হবে। সেখানে জায়গার পরিমাণ ২১৪ একর। ইতোমধ্যে সাড়ে ছয় হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হয়েছে। হাজারখানেক অ্যাপার্টমেন্টে বরাদ্দপ্রাপ্তরা বসবাসও শুরু করেছেন। ওই প্রকল্পে দুটি স্কুল ছাড়া আর কিছুই রাখা হয়নি। পরে দুটির পরিবর্তে একটি স্কুল করা হয়। সেটাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নর্থপয়েন্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। ওই স্কুলে শুধু ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরাই পড়তে পারবে। এ প্রসঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোজাফফর উদ্দিন বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু পরিকল্পনা তো অনেক আগে করা। তাই করার কিছু নেই।
এদিকে ৩৮১ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের অবস্থা আরও করুণ। সেখানে বিভিন্ন আকৃতির এক হাজার ৬৭৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২২ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। সেখানেও প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে অন্তত ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা থাকলেও এর অর্ধেকও নেই। মাধ্যমিক স্কুল-কলেজের চিত্র আরও নাজুক। দুটি স্কুল-কলেজ পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
এসব প্রসঙ্গে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আবাসন প্রকল্পগুলো প্রণয়নের শুরুতে যে পরিকল্পনা ছিল সে অনুযায়ী জনসংখ্যা বসবাস করলে সমস্যা হতো না। কিন্তু পরে প্রকল্পগুলোতে বসতির সংখ্যা বেড়ে গেছে। পূর্বাচলে ১০ লাখ মানুষের বসবাসের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এখন দ্বিগুণ মানুষের বসবাসের কথা বলা হচ্ছে। যদি ১০ লাখ মানুষ বসবাস করে, তাহলে মানদণ্ড ঠিক থাকে। এ বিষয়টি অনুসরণ করার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু ১০ লাখের বেশি মানুষ পূর্বাচলে বাস করলে সেখানে মানদণ্ড অনুযায়ী নাগরিক সুবিধাদি থাকবে না। জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পূর্বাচলও ধানমন্ডি, গুলশানের মতো হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞ মত :এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. আকতার মাহমুদ বলেন, একটি আবাসন প্রকল্প করতে হলে তার পপুলেশন ডিজাইন থাকতে হয়। ওই এলাকায় কতগুলো প্লট থাকবে, কতগুলো ফ্ল্যাট হবে, কতগুলো পরিবার থাকবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে কমিউনিটি সুবিধা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। এসবের মধ্যে প্রথম যে বিষয়টি আসে স্কুল। বর্তমানে রাজউকের যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আছে সেই নীতিমালা অনুসরণ করলে পূর্বাচলে ৩০ লাখ মানুষ বসবাস করবে। অথচ সেখানে ওই পরিমাণ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। এই চিত্র পূর্বাচল ছাড়াও অন্যান্য আবাসন প্রকল্পেও আছে। স্কুল-কলেজ-খেলার মাঠ তো ওই অনুপাতে নেই। ফলে দেখা যাবে এসব প্রকল্পেও এক সময় জনসংখ্যা বেড়ে যাবে। আবাসিক ভবনের মধ্যে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১৪-১৫ হাজার ফ্ল্যাটের প্রতি ফ্ল্যাটে ছয়জন করে মানুষ বসবাস করলে ৮০ থেকে ৯০ হাজার মানুষ বাস করবে। প্রতি সাড়ে ১২ হাজার জনসংখ্যার জন্য ২টি করে প্রাথমিক স্কুল ধরলেও সেখানে থাকার কথা ১৪-১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু তা রাখা হয়নি। তাহলে বাধ্য হয়ে শিশুদের দূরের স্কুলে গিয়ে পড়তে হবে, যা নেইবারহুডের সংজ্ঞার সঙ্গে বেমানান। অনেক সময় বলা হয়, প্রভাবশালীদের চাপে রাজউক পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পগুলো ধ্বংস করছে। কিন্তু আমি বলব প্রভাবশালীদের চাপের বিষয়ের চেয়ে বড় বিষয় হলো, ঢাকা শহরকে সমস্ত কিছুর কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করা হয়েছে। এটা না করে ঢাকার বাইরের জেলা-বিভাগীয় শহরে নাগরিক সেবাগুলো যদি নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ঢাকামুখী জনস্রোত কমে আসবে। এখন যে সবাইকে ঢাকায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটার প্রয়োজন হবে না। একটা জাতীয় নীতিমালার আলোকে বিষয়টি চিন্তা করা দরকার। ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলোতে কীভাবে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, শিক্ষা-চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়, সেটা দেখতে হবে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন স্থানে ১০০টা ইকোনমিক জোন তৈরির চেষ্টা করছে। এটা হলে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
ড. আকতার মাহমুদ মনে করেন, জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বর্তমান যে কেন্দ্রমুখী নীতিমালা আছে এটা দিয়ে ঢাকার আবাসন সমস্যার সমাধান করা যাবে না।


বিষয় : রাজউক মানছে না নিজের মানদণ্ড

মন্তব্য করুন