সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ। সারা দেশ থেকে আসা সংসদের কয়েকশ নেতাকর্মী মঙ্গলবার দপুরে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। ফলে শাহবাগ মোড়ের চারপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মসূচি থেকে তারা তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না বলে জানান।

তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুরক্ষা আইন পাস করে মর্যাদা নির্ধারণ করা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন প্রতিনিধিকে ভোটার করাসহ ১৯৭২ সালের সংজ্ঞা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা, মুজিব কোটের পবিত্রতা রক্ষায় সিনেমা, সিরিয়াল নাটকে মন্দ চরিত্রের মুজিব কোট পরা নিষিদ্ধ করাসহ মন্দ লোকদের মুজিব কোট পরার সুযোগ বন্ধ করার জন্য আইন পাস করা, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলমুক্ত করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা নির্যাতন ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্নীতি, মাদক, ধর্ষণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখাসহ কঠোর আইন প্রণয়ন করাসহ হাসপাতাল, সরকারি অফিস, বিমান বন্দরসহ সব জায়গায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া।

অবরোধ কর্মসূচিতে সংসদের নেতারা বলেন, সরকারের তরফ থেকে দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা অবস্থান চালিয়ে যাব। চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালসহ আমাদের সাত দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা শাহবাগ ছেড়ে যাব না। সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীরা এসেছে। নেতাকর্মীদের অন্তত তিন দিনের খাবার ব্যবস্থাসহ উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। লাগাতার কর্মসূচি চলবে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে কোটা পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। সংসদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলেমান মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান সজীব সরকার, ইয়াসিন আকন্দ, তসলিমা রেজা, যুগ্ম মহাসচিব ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা, তিতুমীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ বরাদ্দ ছিল।

ওই পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দেয় সরকার। কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করে পুরোপুরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করলে ওই বছরের ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভা তাতে সম্মতি দেয়। পরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিষয় : শাহবাগ অবরোধ মুক্তিযোদ্ধা কোটা

মন্তব্য করুন