আবাসন ব্যবসায় লগ্নি করা টাকা দুই বছরে দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদ পাতে চক্রটি। মানুষকে আকৃষ্ট করে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে। এরপর টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এভাবে ছয় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা। 

চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আল আমিন, মো. মামুন, মঞ্জুর রহমান মোহন, মোজাম্মেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, আবদুল হালিম, জাহাঙ্গীর আলম, শাহাদাত হোসেন সুমন ও আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫০টি প্লট ও ফ্ল্যাট বুকিং আবেদন ফরম, এসএস আবাসন নামের প্রতিষ্ঠানটির সাতটি লেনদেন-সংক্রান্ত রেজিস্টার, অর্থ বিনিয়োগ চুক্তিপত্রে ব্যবহূত ১২টি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ৩৫টি আবেদন ফরম, ১৭টি লেনদেন-সংক্রান্ত খাতা, দুটি ডেবিট ভাউচার, ছয়টি মানি রিসিট, এসএস আবাসনের ছয় পাতা কমিশনশিট ও নগদ ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক জানান, চক্রের মূল হোতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুর রহমান পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে ভুক্তভোগীর সংখ্যা ও আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সিআইডি জানায়, ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকায় এসএস আবাসনের অফিসে কেউ ফ্ল্যাট কিনতে গেলে দুই বছরে লগ্নিকৃত টাকা দ্বিগুণ হবে বলে প্রলোভন দেখাত তারা। বলত, এক লাখ টাকায় ছয় হাজার ৩০০ টাকা লাভ দেওয়া হবে। বিনিয়োগকারী নিয়ে গেলে ৬ শতাংশ কমিশন দেওয়ার ঘোষণাও ছিল তাদের। তারা ফেসবুকসহ অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার চালাত। এতে অনেকেই তাদের ফাঁদে পড়েন। এর মধ্যে বড় অংশই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তাদের কয়েকজনকে লাভ হিসেবে কিছু টাকাও দেওয়া হয়। পরে তারা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লোকজন গিয়ে তাদের অফিস বন্ধ দেখতে পান। প্রতারণার শিকার শতাধিক ব্যক্তি সিআইডিতে অভিযোগ করেছেন।

সিআইডির সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরাল আইয়ুব হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, চাকরির ইন্টারভিউ দিতে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে চাকরির আগেই প্রতারণার ফাঁদে পড়েন। তাকে লাখে ছয় হাজার ৩০০ টাকা লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর তিনি চার লাখ টাকা লগ্নি করেন। গত মঙ্গলবার লাভের টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন অফিসটিতে সিআইডির সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন। পরে তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।


মন্তব্য করুন