হাতে বা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ভিড়ের মধ্যে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছেন আপনি। গন্তব্যে ফেরার পর দেখলেন ব্যাগের চেইন খোলা। আর ব্যাগের ভেতরেও থাকা টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্র নেই। কিছু সময় এদিক-ওদিক খোঁজাখুঁজির পর বুঝতে পারবেন- পথে কেউ চেইন খুলে ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে গেছে। পুরান ঢাকায় এমনই একটি চক্রের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ- যারা হাঁটতে হাঁটতে অন্যের ব্যাগের চেইন খুলতে পারদর্শী। আর এটাই ওদের পেশা।

সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই চক্রের সদস্যরা তানভীর হাসান রনি নামের এক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তানভীর কোতয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি বলেন, 'ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামপুরের যমুনা ব্যাংকের একটি শাখা থেকে ১০ লাখ তোলেন রনি। টাকা দুই ভাগ করেন। একটা সাইড ব্যাগে রাখেন ৫ লাখ টাকা। বাকি ৫ লাখ টাকা খামের ভেতরে ভরে হাতে রাখেন। এরপর পাঁয়ে হেঁটে লায়ন টাওয়ার থেকে ইসলামপুরের শাড়ি পট্টির জনতা ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর দেখেন, ব্যাগের চেইন খোলা; টাকাও নেই।

বাবু বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রাজীব মিয়া জানান, তানভীর অভিযোগ পাওয়ার পর ওই এলাকার সব সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করে কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগ থেকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তারা হলেন- দ্বীন ইসলাম বাবু, মো. শাওন ও বিপ্লব সরকার। তাদের মধ্যে বাবু ও বিপ্লব আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। শাওন তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছে। এই চক্রের আরও দু'জনকে খোঁজা হচ্ছে।

রাজীব মিয়া আরও বলেন, হাতিয়ে নেওয়া ৫ লাখ টাকার মধ্যে শাওন ভাগে পান ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, বাবু ২ লাখ ৩০ হাজার ও বিপ্লব পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা।



মন্তব্য করুন