ধান-চাল এবং আলুর দাম বৃদ্ধির পেছনে ভুল পরিসংখ্যানকে দায়ী করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ধান এবং আলু উৎপাদনের তথ্য সঠিক নয়। একারণেই মৌসুমেও এসব কৃষিপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বাজার চাহিদা ঠিক রাখা এবং উন্নয়নের স্বার্থে মিথ্যা পরিসংখ্যান বাদ দিয়ে সত্য এবং সঠিক পরিসংখ্যান প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেছেন, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার স্বার্থে সঠিক পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে পরিসংখ্যান ব্যুারো (বিবিএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। দেশব্যাপী জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানাীর হোটেল সোনারাগাঁওয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। প্রথমবারের মতো এবারই দেশে জাতীয় পরিংখ্যান দিবস পালিত হচ্ছে। এ জন্য রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্বীপগুলো সজ্জিত করা হয়। এছাড়া রাজধানীর বাইরে জেলা পর্যায়েও র‌্যালি এবং আলোচনা সভার বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

পরিসংখ্যানের ভুলের খেশারত প্রসঙ্গে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‌‘কৃষি বিভাগ থেকে বলা হলো, এবার এক কোটি ১০ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। সত্যিই যদি এত আলু উৎপাদিত হতো তাহলে দাম বাড়লো কেন। উৎপাদনের এই তথ্য আসলে ভুল। এর জবাব কে দেবে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একইভাবে ধান-চালের দাম বেশি। কারণ, উৎপাদনের পরিসংখ্যান সঠিক নয়। সঠিক পরিসংখ্যান করা না গেলে সব উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। মিডিয়া এবং ভিন্ন মতের পক্ষ এ বিষয়ে সমালোচনা করবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য বিষয়েও এরকম সমালোচনা হয়ে থাকে।’ এ প্রসঙ্গে জনসংখ্যার প্রকৃত সংখ্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা কেউ বলছে ১৭ কোটি, কেউ ১৮ আবার কেউ ২০ কোটিও বলছে।’

বিবিএসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক পরিসংখ্যান প্রণয়নে যথাযথ উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করতে হবে। ইউরোপ কিংবা আমেরিকার পদ্ধতি এদেশে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এদেশের বাস্তবতা ভিন্ন। পৃথিবীর কোনো দেশে এত ভাসমান নেই।’ এ বাস্তবতার আলোকে বিচার বিশ্নেষণ করে সঠিক পরিসংখ্যান জাতির সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন ড. আব্দুর রাজ্জাক।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিবিএসে পেশাদারিত্ব চর্চার কথা তুলে ধরেন তিনি। লোকবল এবং সক্ষমতার ঘাটতিও তুলে ধরেন সচিব।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অনারারি অধ্যাপক ড. পি কে মতিউর রহমান, বাংলাদেশে ইউনিসেফ এর প্রতিনিধি টুমো হুজুমি প্রমুখ।

মন্তব্য করুন