১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালি জাতির ওপর শোষণ এবং মুক্তির আন্দোলনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা আছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে। এটি শুধু ভাষণই নয়, একটি অনুপ্রেরণার নাম। এই ভাষণের মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অ্যালামনাইয়ের সভাপতি এ. কে. আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব রঞ্জন কর্মকারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অ্যালামনাইয়ের সহসভাপতি আনোয়ার উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, যুগ্ম মহাসচিব সুভাষ সিংহ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সেলিমা খাতুন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ। বঙ্গবন্ধু কোটি বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্ন নিজের বুকে ধারণ করে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন- 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' এই ভাষণের পরই সমগ্র জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সুবর্ণজয়ন্তীতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বর্তমান প্রজন্মকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে টেকসই উন্নয়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী কর্মী গড়ে তোলার জন্য সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে বলেও অঙ্গীকার করেন তারা।

সভাপতির বক্তব্যে এ. কে. আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ছিল এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া। এ জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি বছরের পর বছর পরিবারের মানুষকে না দেখে জেলে কাটিয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে নিয়ে গেছেন। সামনেরবার তার নেতৃত্বে যদি আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে, তাহলে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভা থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং 'বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ভাবনা' শীর্ষক লেখা আহ্বান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।