রাজধানীর মুগদা এলাকায় বাসায় ঢুকে জজ মিয়া ওরফে আলামিন (২৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে পালানোর সময় দু'জনকে আটক করে স্থানীয়রা। তারা হলো- মো. জুবায়ের ও তার বড় ভাই মো. শাকিল।

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা সমকালকে বলেন, নিহত যুবকের একটি লন্ড্রি ও মোবাইল ফোন রিচার্জের ব্যবসা রয়েছে। সেই দোকানে কাজ করতেন জুবায়ের। তার দাবি, মালিক তুচ্ছ ঘটনায় প্রচণ্ড বকাঝকা করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এ ক্ষেত্রে তার ভাই তাকে সহায়তা করেছেন। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, উত্তর মুগদার বাশার টাওয়ারের পেছনে সর্দার গলির ১২৪/এ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন আলামিন। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সেখানে যান জুবায়ের ও শাকিল। করাঘাত করলে আলামিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ হোসেন দরজা খুলে দেন। তখন তার মুখ চেপে ধরে অস্ত্রের ভয় দেখায় দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে তিনি ও তার ভাবি কল্পনা (নিহতের স্ত্রী) বাসার বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সুযোগে আলামিনকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় হত্যাকারীরা। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলাকাটা হয়। নিহতের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে।

মুগদা থানার এসআই সোয়েব খান জানান, খবর পেয়ে মধ্যরাতের পর ওই বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। হত্যার পর পালানোর সময় আটক দু'জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জুবায়ের ও নিহত দোকান মালিকের বাড়ি একই এলাকায়। সেই সূত্রে তারা পূর্বপরিচিত। নিজের দোকানে তাকে কাজে নেন আলামিন।