দুই সপ্তাহ পরে শুরু হচ্ছে রমজান। এই সময়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উত্তাপ বইছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বৃহস্পতিবার থেকেই রমজান উপলক্ষে বাজারদরের চেয়ে কিছুটা কম দামে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। 

এসব পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। প্রথম দিনেই চৈত্রের খরতাপ সহ্য করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনেছেন অনেকে। স্বল্প মূল্যে পণ্য কেনার প্রতিযোগিতায় করোনা ঝুঁকির তোয়াক্কাও করছেন না ক্রেতারা।

এদিন টিসিবির গুদাম থেকে পণ্য ছাড় করে অনেক দেরিতে এসেছিল মিরপুর-১ নম্বরে টিসিবির পণ্যের ট্রাক। ভরদুপুরে ঠায় অপেক্ষায় বসে ছিলেন ক্রেতারা। বিকেল পৌনে ৪টায় সিটি করপোরেশন মার্কেটের সামনে আসে ট্রাক। ট্রাক আসার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে দাঁড়ান ক্রেতারা। ট্রাক আসার পরে সময় যত বাড়তে থাকে, লাইনও তত দীর্ঘ হয়েছে। শুধু মিরপুর নয়, রাজধানীর অন্যান্য স্থানেও টিসিবির ট্রাকে লাইন অনেক বড় ছিল।

টিসিবির ডিলার আব্দুল কুদ্দুস সমকালকে বলেন, গুদাম থেকে বিকেল ৩টার পরে পণ্য দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাজারেও বিকেলে আনা হয়েছে।

আগারগাঁও ৬০ ফিট রোডে ভরদুপুরে রোদে পুড়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনছেন সাধারণ ভোক্তারা। তবে এই ট্রাকে শুধু পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেল ছিল। তাও পরিমাণে সামান্য। জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, অন্য পণ্য আগেভাগেই বিক্রি শেষ হয়েছে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির সমকালকে বলেন, কোনো ডিলার আগের দিনের কম দামে নেওয়া পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন না। এমনটা কোনো ডিলার করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে ৫০০ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। রাজধানীতে ১০০টি ট্রাকসহ ঢাকা জেলায় ১৩৫ ট্রাকে পণ্য বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে ২০টি এবং অন্যান্য বিভাগ ও জেলায় বাকি ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। প্রত্যেক ডিলারকে ট্রাকে এক হাজার থেকে ১২০০ লিটার ভোজ্যতেল, প্রায় সমপরিমাণ পেঁয়াজ, ৮০০ কেজি চিনি, ৬০০ কেজি মসুর ডাল ও ৪০০ কেজি ছোলা দেওয়া হয়। পুরো রমজান ও ঈদ পর্যন্ত ডিলারদের মাধ্যমে খোলা ট্রাকে এ পণ্য বিক্রির বিশেষ কার্যক্রম চালু রাখবে টিসিবি।