টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসে রোববার আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণ 'এক্সারসাইজ শান্তির অগ্রসেনা'র উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার নিরলস প্রচেষ্টাকে সমুন্নত রাখতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

এ সময় সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, ১৯ পদাতিক ডিভিশন এবং এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়ার মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সামরিক অনুশীলনে ১১টি দেশের প্রতিনিধি যোগদান করছেন। বাংলাদেশের ৩০ জন, ভারতের ৩০ জন, শ্রীলংকার ৩০ জন এবং ভুটানের ৩৩ জনসহ মোট ১২৩ জন সেনাসদস্য সরাসরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, নেপাল, তুরস্ক, সৌদি আরব, ভারত, শ্রীলংকা ও ভুটানের মোট ১৯ জন অবজারভার অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পারস্পরিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সহযোগী কাজের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হবে।

প্রশিক্ষণে সামরিক অপারেশনের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষণটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামাদি এবং মিলিটারি গ্যাজেটসমূহ সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যদের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এ অনুশীলন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম বহুলাংশে বাড়াবে। সামরিক প্রশিক্ষণটি আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। আইএসপিআর।


মন্তব্য করুন