প্রতিদিনই করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে ঢাকাসহ সার দেশে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হচ্ছে দেশবাসীকে। কিন্তু অনেকেই সরকারি বিধিনিষেধ মানছেন না। মাস্ক ছাড়ায় বাইরে বের হচ্ছেন। সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন এবং করোন বিস্তার রোধে জনসচেতনা বৃদ্ধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার র‌্যাব রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক চারটি ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৬৫ জনকে জরিমানা করেছে। 

মাস্ক ব্যবহার না করা এবং অহেতুক বাইরে বের হওয়ার কারণে এসব জরিমানা করা হয়। এ সময় র‌্যাব মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, মতিঝিল শাপলা চত্বর, শ্যামলীর রিং রোড, দারুস সালাম রোড ও যাত্রাবাড়িতে র‌্যাবের চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এরমধ্যে শাপলা চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয় বেলা ১১টায়। র‌্যাব-৩ এর সদস্যদের নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলাশ কুমার বসু। 

তিনি সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার না করা এবং বাইরে বের হওয়ার কারণ সম্পর্কে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় তাদের জরিমানা করা হয়। তাদের অনেকের কাছে মাস্ক থাকলেও মুখে ছিল না। কেউ থুতনিতে কেউ পকেটে মাস্ক ঢুকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি আরও জানান, প্রায় আটশ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে এই সময়ে।

দুপুরে র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমান আদালত যাত্রাবাড়ির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান। এ সময় ১৩ জনকে জরিমানা করাসহ সচেতনতা বদ্ধির লক্ষ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। এর আগে সকালে র‌্যাব-৪ দারুস সালাম রোডে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ১১ জনকে জরিমানা করে। বিকেলে শ্যামলীর রিং রোডে অভিযান চালায় র‌্যাব ২। ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। 

র‌্যাব-২ এর সিনিয়র এএসপি মো. শহীদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন ও করোনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে ভ্রাম্যমান আদালত বসানো হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার না করায় ১৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ১২শ' মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।