বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে দ্রব্যমূল্য ২০ ভাগ বাড়িয়ে তা পরে ৫ ভাগ কমানোর নামে ভোক্তাদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করছে সরকার। মূল্যবৃদ্ধির এই চক্রের শীর্ষে রয়েছে সরকারের চালিকাশক্তিরাই।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার সর্বাত্মক লকডাউনের কথা বললেও তা পরিকল্পনাহীন। যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কী ব্যবস্থা করছেন? এই লোকগুলোকে তো ঘরে রাখতে পারবেন না। যার পেটে ভাত নেই তিনি লকডাউন দিয়ে কী করবেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে রমজানের সময় টিসিবি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করত, সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমায় রাখার চেষ্টা করত। এবার ওই টিসিবি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রমজান সামনে রেখে সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সব কিছু এখন ক্রয়সীমার বাইরে। মধ্য ও নিম্নবিত্তের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জীবনযুদ্ধে টিকতে না পেরে শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটছেন অনেকে। আগে যারা কষ্ট হলেও দোকান থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করত, তাদের অনেককেই এখন টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। এই শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মান দ্রুত নিম্নতর পর্যায়ে নেমে গেছে। মধ্য ও নিম্নবিত্তের খাবারের সংস্থান কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে লকডাউনের নামে আবার একটি অকার্যকর শাটডাউন জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। ফলে দেশের কোটি কোটি 'দিন আনে দিন খায়' শ্রেণির জীবনে ভয়ংকর এক দুঃসময় নেমে এসেছে। তাদের খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে সরকার পুনরায় অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কীভাবে লকডাউন সফল করা যাবে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় জাতীয় কমিটি তৈরি করতে হবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, এনজিও, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করেন। জনগণকে সম্পৃক্ত না করলে সুফল পাওয়া যাবে না। কিন্তু সরকার জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায় না। তারা লুটপাট করবে বলে এটা করছে না।

লকডাউনের বিরোধিতা করছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা লকডাউনের বিরোধিতা করছি না। সরকার যেটা করেছে সেটা নিজেদের ব্যবসার জন্য, দুর্নীতির জন্য। তাদের নিয়তই খারাপ। তাদের নিয়ত হচ্ছে- এখান থেকে দুর্নীতি করে কানাডায় বাড়ি বানাবে। এজন্য এখানে গণস্বাস্থ্যকে টেস্ট কিট তৈরি করতে দেয়নি।