করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বুধবার থেকে দেশে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হলেও মুভমেন্ট পাস নিয়ে লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করতে চাচ্ছে। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে 'মুভমেন্ট পাস' নামের অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর তাতে প্রথম ঘণ্টায় এক লাখ ২৫ হাজার মানুষ লকডাউনে বাইরে যাতায়াতের জন্য আবেদন করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, এরপর প্রতি মিনিটে ১৫ হাজার করে আবেদন জমা পড়ছে। তবে সন্ধ্যার দিকে কয়েক দফা চেষ্টা করেও ওই অ্যাপে প্রবেশ করা যায়নি।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, 'বুধবার থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া লকডাউনে কাউকে রাস্তায় দেখতে চাই না।'

লকডাউন পালনে সবার সহযোগিতা চেয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, 'চাপ প্রয়োগের চেয়ে নিজেদের উদ্যোগেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এসব না মানলে সমগ্র বাংলাদেশকে আইসোলেশনে নিতে হবে।'

ড. বেনজীর বলেন, সীমিত কারণে বের হওয়া লাগতে পারে। তবে তাদের মুভমেন্ট পাস নিতে হবে। বের হলেও অবশ্যই দ্রুত ঘরে ফিরতে হবে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তরুণেরা কেউ বের হবেন না। গাড়ি বের করার বিষয়েও তিনি সবাইকে নিরুৎসাহী করেন।

তিনি আরও বলেন, 'মুভমেন্ট পাস নিতেই হবে এমন না। আমরা কাউকে বাধ্য করছি না। এখানে আইনগত কোনো বিষয় নেই।' তবে পাস ছাড়া কেউ বের হলে তিনি পুলিশের জেরার মুখে পড়বেন বলে ইঙ্গিত দেন আইজিপি। অবশ্য গণমাধ্যমকর্মীদের এই পাস লাগবে না।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, https://movementpass.police.gov.bd/ ওয়েবসাইটে ঢুকে পাসের জন্য আবেদন করা যাবে। ওই সাইটে ঢুকে সংশ্লিষ্ট ফরম সঠিকভাবে পূরণের পর সেটি জমা দিলেই মুভমেন্ট পাস চলে আসবে। ডাউনলোডের পর তা প্রিন্ট করে বা মোবাইল ফোনে চলাচলের সময়ে কর্তব্যরত পুলিশকে দেখাতে হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, মুদি মালপত্র কেনাকাটা, কাঁচাবাজার, ওষুধ কেনা, চিকিৎসা, চাকরি, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ, পাইকারি/খুচরা ক্রয়, পর্যটন, মৃতদেহ সৎকার, ব্যবসাসহ অন্যান্য জরুরি কারণে বাইরে যাওয়ার জন্য পাসের আবেদন করা যাবে। ঢাকার বাইরে যাতায়াতে মুভমেন্ট পাস লাগবে। একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক পাস নেওয়া যাবে না। একটি পাস একবার ব্যবহার করা যাবে। যাওয়া এবং আসার জন্য দুটি আলাদা পাসের আবেদন করতে হবে।

যাদের ইন্টারনেট ব্যবস্থা নেই, স্মার্টফোন নেই, তারা কীভাবে এই পাস সংগ্রহ করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, 'দেশে প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কেউ না পারেন, তাহলে প্রতিবেশীর সাহায্য নিতে পারেন।'

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন