রাস্তার পাশে বসে খুনসুটি করছিল দুই বোন। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন নীলা বেগম ও তার ১০ বছরের মেয়ে। ছোট্ট দুই শিশুকে এভাবে দেখে থমকে দাঁড়ায় তারা। দুই বোনের মধ্যে বড়জনের বয়স তিন বছর, আর ছোটজনের দুই বছর। ছোট বোন দেখতেও সুশ্রী। তার নাম রাশিদা আক্তার জুঁই। মুহূর্তের মধ্যেই নীলা বেগম শিশুটিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর জন্য অপহরণের সিদ্ধান্ত নেন। এক পর্যায়ে জুঁইয়ের হাতে চকলেট দিয়ে তাকে নিজের মেয়ের কোলে তুলে দেন তিনি। এর পরই অপহরণ করে নিয়ে যান তারা। গ্রেপ্তারের পর শিশুটিকে অপহরণের দায় স্বীকার করে রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নীলা বেগম।

গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে জুঁইকে অপহরণ করা হয়। এর ছয় দিন পর গত শনিবার কেরানীগঞ্জের শহিদনগর থেকে বংশাল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় নীলা বেগমকে। তার ১০ বছরের মেয়েটিকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে গাজীপুরে কিশোর সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। নীলা বেগমকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। নীলা নিজেও ভিক্ষা করেন।

বংশাল থানার এসআই মোহাম্মদ শিকদার আলী জানান, রাজধানীতে কাগজ ও ভাঙাড়ি জিনিস কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মোসাম্মৎ সুমা ও তার স্বামী রাসেল। মোহাম্মদপুরের আজিজ খান সড়কের একটি বস্তিতে বসবাস করেন তারা। তাদের দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে জুঁই সবার ছোট। গত ২৫ এপ্রিল দুই মেয়েকে নিয়ে বংশালে কাগজ কুড়াতে যান ওই দম্পতি। পুরাতন বংশাল সড়কের পাশে দুই শিশুকে বসিয়ে রেখে তারা কাগজ কুড়াচ্ছিলেন। মিনিট দশেক পর ফিরে এসে জুঁইকে পাননি। ওই দিনই বংশাল থানায় জিডি করেন সুমা। তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির সমকালকে জানান, ঘটনাটি একেবারেই ক্লু-লেস ছিল। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করা হয়। এতে শিশুটিকে অপহরণের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। অনুসন্ধান চালিয়ে শনিবার শিশুটিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলীর শহিদনগরে নীলা বেগমের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। নীলাকেও এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পরে অপহরণ মামলা করা হয়। অপহরণের কথা স্বীকার করে নীলা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ওসি জানান।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীলার চার সন্তান। তাদের দিয়ে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করান। নিজেও ভিক্ষাবৃত্তি করেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। দুই বছরের জুঁইকে ভিক্ষাবৃত্তির জন্যই তিনি অপহরণ করেছিলেন। শিশুটিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলীর শহিদনগরে ভাড়া বাসায় নিয়ে মারধর করা হয়। নির্যাতনে শিশুটির চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। নীলা জবানবন্দিতে বলেছেন, শিশুদের দেখলে মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া শিশু অসুস্থ ও চেহারা বিকৃত হলে মানুষের মায়া বেশি হয়। এতে ভিক্ষা বেশি পাওয়া যায়। শিশুটিকে অসুস্থ করে তুলতেই তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন