রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদসহ অন্য অংশীদারদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য কমিটি গঠন করা হবে। প্রয়োজন হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নকশাও পরিবর্তন করা হবে।

মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, একান্ত সচিব সানোয়ার হোসেন, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আবদুল্লাহিল মারুফ উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুধুমাত্র ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য যদি গাছ কাটা হয়ে থাকে, তা দুঃখজনক। কারও যদি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বা অসাবধানতার কারণে গাছ কাটা হয়ে থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

'গাছ কেটে রেস্টুরেন্ট' শিরোনামে গত ৬ মে সমকালে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্নিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠান পরিবেশবাদী ছয়টি সংগঠন এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে এসব সংগঠন ৯ মে হাইকোর্টে পৃথক রিট এবং আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদ সম্মেলন ডাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস-পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে মহাপরিল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মোট ১০০টি গাছ কাটার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে ৫০টি গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবিদসহ সচেতন মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের এই উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা পরিবেশবিদসহ সংশ্নিষ্ট স্টেকহোল্ডার ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করব এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাজ চলমান রাখা যায়, তার উপায় বের করার চেষ্টা করব। তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সব ঐতিহাসিক স্থান যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর অন্যান্য উদ্যানের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য ভিন্ন। অন্যান্য উদ্যান শুধুই একটি উদ্যান। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম সুতিকাগার।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরিবেশবিদ, উদ্যানবিদ ও নগরবিদদের পরামর্শের ভিত্তিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ১০ গুণ বেশি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।