ঈদ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের বেচাবিক্রিতে জমে উঠেছে রাজধানীর মার্কেটগুলো। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি খানিকটা মানা হচ্ছে, কোথাও এর বালাই নেই। পোশাক, জুয়েলারি আর জুতার দোকানগুলোতে বেশি ভিড় করছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার রোজার ২৮তম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শপিংমল ও মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রিয়জনের পোশাক কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নানা বয়সী মানুষ। করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চলা মন্দাভাব এই কেনাকাটায় খানিকটা দূর হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নিউমার্কেটের পোশাক বিক্রেতা নিয়ামুল করিম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বিক্রি ভালো হচ্ছে। এবার হয়তো লোকসান হবে না। গাউছিয়া মার্কেটের গহনা বিক্রেতা রাজিব বলেন, গত বছর ঈদে বেচাকেনা হয়নি। প্রায় সারাবছর লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার পহেলা বৈশাখের বাজারও ধরতে পারিনি। এই ঈদে লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। গত দু'দিন ধরে বেচাবিক্রি বেড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিপণিবিতানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি অনেকটা মানা হলেও নিউমার্কেট-গাউছিয়ার মতো মার্কেটগুলোতে ভিড় ঠেলেই কেনাকাটা চলছে। অনেকের মুখে মাস্কও নেই।

মৌচাক মার্কেটে কথা হয় রাবেয়া আক্তারের সঙ্গে। মঙ্গলবার শেষ অফিস করে মার্কেটে এসেছেন সন্তানদের জন্য পোশাক কিনতে। জানালেন, বুধবার গ্রামের বাড়ি যাবেন। তার আগে পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করছেন। কারণ গতবারের ঈদে কারও জন্য কিছু কিনতে পারেননি।

ঈদের জমজমাট কেনাকাটা দেখা যায় বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কের মতো অভিজাত শপিং মলগুলোতে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক'দিন ধরে ক্রেতা সমাগম অনেকটাই বেড়েছে। বেড়েছে বিক্রিও। ঈদ উপলক্ষে নানা রঙের আলোয় সাজানো হয়েছে বসুন্ধরা আর যমুনা শপিংমল। ক্রেতা আকর্ষণ করতে শোরুমগুলোও ভিন্ন সাজে সাজানো হয়েছে। আধুনিক সব পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। রয়েছে ইলেকট্রনিক এবং গৃহস্থালি পণ্যও।

যমুনা ফিউচার পার্কের লেবেল ওয়ানের 'আশু এন্টারপ্রাইজে'র স্বত্বাধিকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বেচাকেনা হচ্ছে। ফলে ক্রেতা সমাগমও বেড়েছে। মিরপুর বেনারসিপল্লি, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স ও রাজউক সেন্টার ঘুরেও কেনাকাটার এমন চিত্র দেখা যায়।


মন্তব্য করুন