বাংলা একাডেমির সভাপতি দায়িত্ব পেয়েছেন ভাষাসংগ্রামী, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। আগামী তিন বছরের জন্য তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

উপসচিব মো. অলিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 'বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩' এর ধারা-৬ (১) অনুযায়ী রফিকুল ইসলাম এ নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাবিতে অধ্যাপনায় যোগ দেন। সেখানেই যুক্ত হন নজরুল গবেষণায়। পরে ঢাবি থেকে অবসরে যান তিনি।

৮৭ বছর বয়সী এই ভাষাবিজ্ঞানী, লেখক ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তখনকার সময়ের কিছু দুর্লভ আলোকচিত্রও তিনি তুলেছিলেন। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের এই প্রত্যক্ষ সাক্ষী সেইসব ইতিহাস তার লেখায় নিয়ে এসেছেন। 'বাংলা ভাষা আন্দোলন', 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর'সহ তার লেখা ও সম্পাদনা করা বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩০টি।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের সাবেক এই উপাচার্য এক সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে 'জাতীয় অধ্যাপক' করে নেয়। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এর আগে স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেখাপড়া করেন। ভাষাতত্ত্বের উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন ও গবেষণা সম্পাদনা করেন আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, মিশিগান-অ্যান আরবর বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টারে।

এর আগে বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন ফোকলোর গবেষক ও অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। গত ১৪ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এর পর থেকে বাংলা একাডেমির সভাপতির পদটি শূন্য ছিল।



বিষয় : বাংলা একাডেমি অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম

মন্তব্য করুন