'ফিরে গেলে যাত্রাপথ/ নত হয় অসমাপ্ত স্বর/ ফিরে গেলে পরমায়ু/ চিত্রময় মিত্র গুপ্তঘর/ একটি তো সিরাজীর কবর।' বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী তার 'গুপ্তঘর' কবিতার শেষ কয়েকটি লাইনে কোন গুপ্তঘরের কথা বলেছিলেন যেখানে তার কবর রচিত হয়েছিল? আমরা জানি না। তার কবিতার শেষলাইনটি অমোঘ সত্যি হয়ে ধরা দিল মঙ্গলবার। কবিকে বাংলা একাডেমিতে সহকর্মী ও সুহৃদদের ফুলেল শ্রদ্ধা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

হাসপাতাল থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবির মরদেহকে গতকাল সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে আনা হয়। সেখানে একাডেমির সচিব এ.এইচ.এম. লোকমানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং সচিব বদরুল আরেফীন।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়াসহ নেতাকর্মীরা। স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ছাত্রলীগের পক্ষে সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও রাইটার্স ক্লাব বাংলাদেশের পক্ষে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদাসহ অন্য সদস্যরা, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পক্ষে সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সহসভাপতি খান মাহবুব এবং আমিনুর রহমান সুলতানের নেতৃত্বে জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, নির্মল রঞ্জন গুহ, কবি তারিক সুজাত, হারিসুল হক, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, চলচ্চিত্রজন জাঁ নেসার ওসমান, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, রেজানুর রহমান, শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন, রহীম শাহ, কাজল ঘোষ প্রমুখ।

আরও শ্রদ্ধা জানায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ, ছোটকাগজ শালুক, মাহবুবুল হক শাকিল সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাবীবুল্লাহ সিরাজী ছিলেন সফল প্রশাসক। এ ধরনের মানুষের মৃত্যু রাষ্ট্র, সমাজ এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য ক্ষতি।

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, সিরাজীর প্রশাসনিক দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সৃষ্টিশীলতা। এই দুটো গুণ নিয়ে বাংলা একাডেমিকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ছিল তার।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রথম জানাজা হয়। এটি পরিচালনা করেন একাডেমির পরিচালক ড. হাসান কবীর। এ সময় সেখানে কবির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর পৌনে ১১টার দিকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় তার দ্বিতীয় জানাজা। পরে সেখানেই কবিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে তিনি মারা যান।