রাজধানীর পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন হত্যার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে কালু ওরফে কালা বাবু নামে ওই আসামিকে পল্লবী থেকে র‌্যাব-৪ গ্রেপ্তার করে। রাতেই তাকে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবির মিরপুর বিভাগ। বৃহস্পতিবার কালুকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।

ডিবি পুলিশের পাশাপাশি সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত করছে র‌্যাব। এ হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও ডিবি এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া র‌্যাব ও ডিবির সঙ্গে পৃথক 'বন্দুক যুদ্ধে' মানিক ও মনির নামে দুই আসামি নিহত হয়েছে।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, কালু মামলাটির ১৮ নম্বর আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সে। তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার বলেন, কালুকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিনি জানান, আরও তিনজন রিমান্ডে রয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের নির্দেশে গত ১৬ মে সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় শিশুসন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পল্লবীর ডি ব্লকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে সাবেক এমপি আউয়ালসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। আউয়ালসহ ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি। রিমান্ড শেষে গত বুধবার আউয়ালকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নকারী সুমনসহ তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুড়িরটেকে আলীনগর আবাসন প্রকল্পে সাহিনুদ্দিনদের জমি দখল করার পাঁয়তারা করেন আউয়াল। এতে বাধা দেওয়ায় সাহিনুদ্দিনকে খুন করা হয়।