তিন ঘণ্টার মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক। কোথাও কোথাও জমে গেছে হাঁটু সমান পানি। অল্প সময়ের মধ্যে এই জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। চলাফেরায় ব্যাঘাত ঘটছে কর্মজীবীদের।

মঙ্গলবার সকালে মিরপুর কালশী এলাকায় দেখা যায়, হাঁটু পানি জমে গেছে প্রায় সব রাস্তায়। বাসের চাকা পেরিয়ে বডি পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে পানিতে। এ জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও প্রায় একই অবস্থা। সকালে বনানী, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, তেজগাঁও ও ধানমন্ডি এলাকার সড়কগুলোতেও একই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঢাকায় মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে ময়মনসিংহে ৪৮ মিলিমিটার, নেত্রকোনায় ৩৬ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ঢাকা ছাড়া আরও ১৫টি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য আবহাওয়া অফিস আগেই এ রকম পূর্বাভাস দিয়েছিল।

তাদের মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহন সংকটে পড়েছেন অফিসগামীরা। রিকশা সংকটও ছিল চাকরিজীবীদের চলাফেরায়। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত আহসার কবীর নামে এক যাত্রী বলেন, এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাস পাচ্ছি না। বৃষ্টির কারণে সিএনজি অটোরিকশাও ভাড়া চাচ্ছে তিনগুন বেশি।

আবার পানি জমে যাওয়ায় অনেক রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সবমিলে অনেকে সময় মতো কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

সোহরাব নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, অফিস শুরু সকাল ৮টায়। কিন্তু এসময় ভারী বর্ষণ; তখনই হাঁট পানি জমে গেছে রাস্তায়। কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। রিকশা পর্যন্ত মেলেনি। হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই। শেষপর্যন্ত তিন ঘণ্টা পর কর্মস্থলে গিয়ে পৌঁছেছি।