রাজধানীর ভাটারার সোলমাইদ এলাকায় জোবেদা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার তার স্বামী আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত সংশ্নিষ্টরা বলছেন, দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামীই তাকে হত্যা করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল কাশেম হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, নিহত নারীর সঙ্গে একজনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের ঝগড়া হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও তেমনি দুজনের কলহ শুরু হয়। এর জের ধরে দেড়টা থেকে দু্ইটার মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সোলমাইদ পূর্বপাড়ার আলামিন মিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে থাকতেন জোবেদা আক্তার। তিনি পেশায় গৃহকর্মী ছিলেন। তার স্বামী আবুল কাশেম রিকশাচালক। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের তুমুল বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সে স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে রাতে বিষয়টি জানা যায়নি। তাদের দুই শিশু সন্তান তখন ঘুমিয়ে ছিল। পরে সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে। অন্যদিকে শুক্রবার ভাটারা এলাকা থেকেই কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভাটারা থানার ওসি মো. মোক্তারুজ্জামান সমকালকে জানান, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নিহতের স্বামীর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দাম্পত্য কলহ বলেই ধারণা করছে পুলিশ। তবে পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।