সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মিয়া জামিন পেয়েছেন।
সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার তাকে জামিন প্রদানের আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর শামছুন নাহার বেগম শাহানা স্বাধীনের জামিনের খবর নিশ্চিত করেছেন।
তিনি সমকালকে জানান, সোমবার দুপুরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাকে জামিন প্রদানের আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ ওমা. ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন- আবু মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আসপিয়া, সাদিকুর রহমান স্বপন, রবিউল লেইছ রোকেস ও আপ্তাব উদ্দিন।
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যবিরোধী বিক্ষোভের সময় হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা গত ১৭ মার্চ হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে নোয়াগাঁও গ্রামের ৮৮ বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৫ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়।
নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় এই তাণ্ডব চালানো হয়।
এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। শাল্লা থানার উপপরিদর্শক আব্দুল করিমমের আসামি করা হয় ১ হাজার ৫০০ জনকে। ঝুমন দাসের মা নিভা রানী দাসের দায়ের করা মামলায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
সবগুলো মামলার প্রধান আসামি ছিলেন স্বাধীন মিয়া।
গত ১৯ মার্চ ইউপি সদস্য ও যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পরদিন স্বাধীন মিয়াকে শাল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ আদালতে হাজির করে স্বাধীনের ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। ২৩ মার্চ আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সোমবার আদালতে জামিন চাওয়ার সময় কারাগারেই ছিলেন স্বাধীন মিয়া।