ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে উন্নত 'গতি নিয়ন্ত্রণ' ব্যবস্থাসহ বুয়েট প্রস্তাবিত 'রিকশা কাঠামো' অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইক নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সরকার গরিব মানুষের কথা না ভেবে শুধু গুলশান-বনানীর মানুষের কথা ভাবে। দেশের সাধারণ মানুষের মুখে অন্নের জোগান দিতে সরকার ব্যর্থ। রিকশাচালকরা নিজ উদ্যোগে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছেন। সরকার আজ তাদের রুটি-রুজির অধিকার কেড়ে নিয়ে সর্বস্বান্ত করে পথে বসাচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ একবিংশ শতাব্দীতে এসে পশুর মতো শ্রম দিতে পারে না। সরকার প্রয়োজনে ব্যাটারি রিকশার প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন ও পরিবর্তন করে লাইসেন্স দিতে পারে।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শ্রমিকরা ভিক্ষা চাইতে আসেনি, নিজেদের অধিকারের কথা বলতে এসেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে প্রয়োজনে শ্রমিকরা সবকিছু বন্ধ করে দেবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোববার ইঞ্জিনে রূপান্তর করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ইজিবাইকও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ সময় বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশার কাঠামো, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স, রিকশাচালকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রকৃত রিকশাচালককে লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে আগামী শুক্রবার থানা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রমিক সমাবেশ, ২৭ জুন জেলা পর্যায়ে শ্রমিক সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেওয়া, একই দিন ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদাৎ খাঁর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ কাফী রতন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস।

এদিকে, সরকারি ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আরেকটি সমাবেশ করে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখা। সংগ্রাম পরিষদের নেতা তানভীর নাঈমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন, ইকবাল ও আলী আকবর।

সমাবেশে বলা হয়, ডিজিটাল যুগে এসে প্যাডেলচালিত রিকশার বদলে মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শারীরিক কষ্ট লাঘব করতে চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। টাস্কফোর্সের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত 'অযৌক্তিক ও গণবিরোধী' বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া করোনার এই দুঃসময়ে মোটরচালিত রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইক উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবউল্লা বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।