আজ প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের এই দিনেই মৃত্যুবরণ করেন নন্দিত এই শিল্পী। বিশেষ এই দিনে তাই বন্ধুকে স্মরণ করতে ভোলেননি হানিফ সংকেত। ভুলবেই কি করে! একজন হানিফ সংকেত ও এন্ড্রু কিশোরের সম্পর্কটা ছিল শোবিজের সম্পর্কের ব্যাকরণের বাইরে। নিবিড় এক বন্ধুত্ব ছিল তাদের। 

বন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে  এন্ড্র কিশোরকে স্মরণ কের হানিফ সংকেত বলেন, 'কিশোর তার গানের মাধ্যমেই বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বন্ধু যেখানে থাকো ভালো থেকো। শান্তিতে থেকো।’

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি'। হানিফ সংকেতের এই 'ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী ছিলেন এন্ড্রু কিশোর।  ইত্যাদির বাইরে হানিফ সংকেত  ও  এন্ড্রু কিশোরের বন্ধুত্ব  ত্ব দীর্ঘ ৪০ বছরের। কিন্তু বন্ধুত্বের বাধন ছিড়ে দীর্ঘ ১০ মাস মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জামানোয়।  তাই এন্ড্রুর চলে যাওয়ায় অন্য যে কারোর চেয়ে অনেক বেশি দুঃখ পেয়েছেন হানিফ সংকেত।

বন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুকে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এন্ড্রু কিশোরের সমাধিস্থলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হানিফ সংকেত। তাতে লিখেছেন, ‘দেখতে দেখতে একটি বছর হয়ে গেলো কিশোর নেই। বিশ্বাস করতে মন চায় না, অথচ এটাই সত্যি। এন্ড্রু কিশোর-বাংলা গানের ঐশ্বর্য। যার খ্যাতির চাইতে কণ্ঠের দ্যুতি ছিল বেশি। যার কাছে গানই ছিল জীবন-মরণ, গানই ছিল প্রাণ। এই গানের জন্যই কিশোর পেয়েছে প্লেব্যাক সম্রাটের উপাধি। গানের জন্যই মানুষ তাকে ভালোবাসতো। অবশেষে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে গত বছরের এই দিনে সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেয় সবার প্রিয় এন্ড্রু কিশোর।’

বন্ধুত্বের গভীরতার কথা জানিয়ে হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘কিশোর যেমন প্রাণ খুলে দরাজ গলায় গাইতে পারতো, তেমনি মানুষের সঙ্গেও প্রাণ খুলে মিশতে পারতো। সবসময় নিজের সুবিধার চাইতে অন্যের সুবিধার দিকেই দৃষ্টি ছিল তার বেশি। কিশোরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় ৪০ বছরের। এক সঙ্গে অনেক আড্ডা দিয়েছি, বহুবার বিদেশে গেছি, এক সঙ্গে থেকেছি। কিশোর ছিল ইত্যাদি’র প্রায় নিয়মিত সংগীত শিল্পী। কিশোর নেই মনে হলেই ভেতরটা হাহাকার করে উঠে। এন্ড্রু কিশোর ছিল একজন আদর্শ শিল্পী, একজন মানবিক মানুষ। যার তুলনা সে নিজেই। কিশোর তার গানের মাধ্যমেই বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বন্ধু যেখানে থাকো ভালো থেকো। শান্তিতে থেকো।’