রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতে খাবার বিক্রি করতেন ২২ বছর বয়সী মো. জুয়েল। লকডাউনের বিধিনিষেধে তার ব্যবসা বন্ধ। পেটে ভাত নেই। ক্ষুধার জ্বালায় মঙ্গলবার দুপুরে খাবার সংগ্রহে গিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকায়। এক রোগীর শয্যায় মানিব্যাগ দেখে সেটি নেওয়ার সময় রুগীর স্বজনেরা তাকে ধরে ফেলেন।

খবর পেয়ে আনসার সদস্যরা এসে তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে 'আমি চোর, আমি চোর, আমাকে চিনে রাখুন' প্ল্যাকার্ড লিখে গলায় ঝুলিয়ে দেন। সেখানেই শেষ নয়।দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা ওই যুবকের কোমরে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে দেন, পিঠমোড়া করে বাঁধা হয় তার দুই হাত। এরপর আপত্তিকর ওই প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে তাকে পুরো হাসপাতালে ঘোরানো হয়। পরে যুবককে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আনসার সদস্যরা ওই যুবককে যখন গলায় আপত্তিকর কার্ড ঝুলিয়ে হাসপাতালে ঘোরাচ্ছিলেন, তখন তিনি হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। বলছিলেন, 'করোনায় কাম হারাইছি, দুই দিন ধরেই কিছুই খাই নাই, তাই...।'

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে এভাবে অভিযুক্ত করে গলায় অপরাধের বিবরণ বা আপত্তিজনক কোনো পরিচয়পত্র বা প্ল্যাকার্ড ঝুলাতে পারেন না। এ নিয়ে উচ্চ আদালতেরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারাও বলছেন, ওই যুবককে নিয়ে আনসার সদস্যরা যা করেছেন তা আইন অনুযায়ী হয়নি।

তবে ঢামেক হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল আউয়াল  সমকালকে বলেন, মাঝেমধ্যেই হাসপাতালে এমন চুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমরা ধরতে পারি না। মঙ্গলবার ওই চোরকে ধরে অন্য চোরদের সর্তক করতেই গলায় এমন কার্ড ঝুলিয়ে তাকে হাসপাতালে ঘোরানো হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে এমনটা তারা করতে পারেন কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রোগীর স্বজনেরা তো জুয়েলকে হাতেনাতে ধরেছে।

জুয়েল বলেন, তিনি চোর নন, কাজ করে খান। কিন্তু পেটের দায়ে খাবারের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। মানিব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে তা নেওয়ার চেষ্টার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া সমকালকে বলেন, ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন- ‘দুই দিন ধরে তেমন খাবার পাচ্ছেন না।’ এজন্য তাকে হোটেল থেকে ভাত এনে খাওয়ানো হয়। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের তথ্যও পাওয়া যায়নি। যার ম্যানিব্যাগ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তিনিও কোনো অভিযোগ দিতে চাননি। এজন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।