'তিন লাখ টাকায় যদি চারটা মানুষের জীবন বাঁচানো যায়, তাহলে আমরা কেন মানুষের জন্য এগিয়ে আসব না? করোনার এই মহামারিকালে আমরা সবাই যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, তাহলে এই সংকট মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য কোনো সমস্যাই নয়। দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন। এ ধরনের মানসিকতার লোকও কম নেই। অনেকেই এগিয়ে আসছেন। যারা এখনও আসেননি তাদেরও আসতে হবে। কারণ জীবনের চেয়ে টাকার মূল্য বেশি না।'

সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। গত ১৫ জুলাই তিনি 'ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতাল' কর্তৃপক্ষের পরিচালকের হাতে আটটি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিন, ১৮টি বাইপ্যাপ মেশিন এবং ৪০ প্যাকেট বাইপ্যাপ মেশিনের এক্সেসরিজ তুলে দেন।

এ প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসির পরিকল্পনা ছিল, মার্কেট করে ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু করোনা মহামারি শুরুর পর চিন্তা করলাম এখানে মার্কেট না করে যদি মানুষের আরও বড় কোনো কাজে লাগানো যায়, যদি মানুষের জীবন বাঁচানো যায় তাহলে সেটা অনেক ভালো। এ জন্যই ডিএনসিসি এটাকে হাসপাতালের জন্য দিয়েছে। যদিও এই মার্কেট থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারত ডিএনসিসি। করোনা মহামারি চলে গেলে এই হাসপাতালটিকে ডিএনসিসির জেনারেল হাসপাতালে পরিণত করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ সব ধরনের চিকিৎসা পাবেন। এর আগ পর্যন্ত ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পানি, বিদ্যুতের খরচও বহন করা হবে। এর আগে আমরা কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সসহ কিছু চিকিৎসাসামগ্রীও দিয়েছিলাম।

ওই অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম এই করোনাকালে দেশের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে কথার সূত্র ধরে তিনি সমকালকে বলেন, সেদিনের সেই ঘোষণার পর অনেকেই এগিয়ে আসছেন। দেশের ভেতরে এবং বাইরে থেকেও অনেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে নিশ্চিত করেছে। আরও অনেকে যোগাযোগ করছে। এমনকি কানাডা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও আমাকে ফোন করে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। যারা করোনা মোকাবিলায় সহযোগিতা করতে চান, তারা ডিএনসিসির মেয়র সেলে এসে যোগাযোগ করতে পারবেন। আমরা তাদের স্বাগত জানাব। মেয়র সেল থেকে তাদের যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, যারা পাশে দাঁড়াবেন, তারা যেন ভালো কিছু করেন, আমরা সেই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছি। আমরা তাদের বলেছি, আপনাদের অনেকে হয়তো চিকিৎসাসামগ্রী কিনে দিতে চান; কিন্তু কিনতে গেলে আপনাদের কাছ থেকে দাম বেশি নিতে পারে। আমাদের এ কাজে যুক্ত করলে অনেকটা কম দামে মানসম্মত জিনিস দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, দেশে করোনা মহামারির শুরুর সময় অনেকে এগিয়ে এসেছিলেন। আমরা ৭৬ হাজার পরিবারকে খাবার দিয়েছিলাম। তখন স্ট্রেট লকডাউন ছিল। কিন্তু এখন করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে সে রকম ভয় নেই। অনেকেই এগিয়ে আসছেন না। অথচ এখন করোনার ভয়াবহতা আরও প্রকট হয়েছে। তবে সবাই এগিয়ে এলে কেউ না খেয়ে মরবে না। মানুষ এগিয়ে এলে কোনো কিছুই অসম্ভব না। হয়তো তিন লাখ টাকার সামগ্রীতেই তিন-চারজনের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

তিনি বলেন, অনেক বিত্তশালী করোনার মহামারির অবস্থা বুঝে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। আবার অনেকের অনেক টাকা-পয়সা থাকলেও পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। অথচ ওই ব্যক্তি যদি ২০ লাখ টাকাও মানুষের জন্য ব্যয় করেন, তার কোনো সমস্যাই হবে না। আমরা তাই মানুষকে বোঝাচ্ছি, এই মুহূর্তে তারা যেন মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। একটা জীবনও যদি কারও কল্যাণে রক্ষা পায়, সেটা অনেক বড় ব্যাপার। আস্তে আস্তে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারছেন। তারা পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। আর মানুষ যদি মানুষের বিপদে পাশে না দাঁড়ায় তাহলে দাঁড়াবে কে?