ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে দুপুর পর্যন্ত ৮ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন  ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে'নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

এসময় তিনি জানান,  ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই কোরবানির হওয়া পশু ও হাটের বর্জ্য ‘শতভাগ অপসারণ করেছে’ ।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘দ্বিতীয় দিনও প্রায় ৩০ শতাংশ কোরবানি দেওয়া হয়। আজকে যে সকল পশু জবাই করা হবে, সেসব পশুর বর্জ্য আমরা আগামী ১০ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ রাত ১২টার মধ্যে অপসারণ করব।’


ঢাকাবাসীকে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই কোরবানি শেষ করার অনুরোধ জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, ‘ঢাকাবাসীকে অনুরোধ,আজকের মধ্যেই কোরবানি শেষ করুন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের একদিন ঈদের ছুটি দিতে চাই।’

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মানবিক দিক বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকাবাসীকে নিবেদন করছি, আপনারা আজকের মধ্যেই কোরবানি দেওয়া বা পশু জবাই শেষ করুন। আমাদের বিশাল জনবল নিরবিচ্ছিন্নভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করে থাকে। তাদেরও ঈদ আছে, তাদের বিশ্রামেরও প্রয়োজন আছে। আমরা তাদেরকে একদিন ঈদের ছুটি দিতে চাই।’ 

যদি বৃহস্পতিবারের মধ্যেও কেউ কোরবানি দিতে না পারেন, তবে শুক্রবার থেকে কোরবানি পশুর বর্জ্য নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নিকটবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে রেখে আসার অনুরোধ জানান। 

ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির সামনে বর্জ্য পড়ে থাকার কথা জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, ‘শতভাগ বর্জ্য অপসারণের পরও কিছু কিছু জায়গায় আবারও বর্জ্য দেখা যায়। সেটা প্রত্যাশিত নয়। আমরা যে ব্যাগ সরবরাহ করেছি, দয়া করে তা সংগ্রহ করুন। সেই ব্যাগে ভরে আপনার পশুর বর্জ্য আমাদের বর্জ্য সংগ্রহকারীদের কাছে হস্তান্তর করুন। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলবেন না।’  

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা অনেক জায়গায় ‘চামড়া ফেলে যাচ্ছেন’ তাদের সতর্ক করে দিয়ে মেয়র বলেন, এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় আমরা লক্ষ্য করছি, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। সেই চামড়াগুলো হয়তো তারা বিক্রি করতে পারেননি। আজ সকাল থেকে আমরা লক্ষ্য করছি - - বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নর্দমার সামনে, নর্দমার মুখে তারা সেই চামড়াগুলো ফেলে গেছেন। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আমি বারবার নিবেদন করেছি, কোনোভাবেই যেন আমাদের নালা-নর্দমাগুলো বন্ধ করা না হয়, এখানে বর্জ্য ফেলা না হয়। কারণ আমরা এখনো বর্ষাকালেই আছে। এই বর্জ্য দ্বারা কোন নালা-নর্দমা যেন বন্ধ না হয়ে যায়।’ 

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ বদরুল আমিন, সচিব আকরামুজ্জামান, পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমান।