ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট সরাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে পুলিশের ব্যবহৃত রেকার ভাংচুর করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী পোর্টলিংক লজেস্টিক ডিপো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ডিপাতে আসা পণ্যবহণকারী ট্রাক, লরি ও কাভার্ডভ্যানগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এলোপাথারিভাবে দাঁড় করে রাখার কারণে শনিবার সকাল থেকে সীতাকুণ্ডু ভাটিয়ারী পোর্টলিংক লজেস্টিক ডিপো এলাকায় পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চট্টগ্রামগামী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তির মধ্যে পড়ে চট্টগ্রামগামী পণ্যবাহী ও রোগী বহনকারী গাড়ি। পরে সকাল ১১টায় আউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ সড়ক যানজট মুক্ত করতে পুলিশের ব্যবহৃত রেকার ( গাড়ি উদ্ধারের যন্ত্র) নিয়ে আসে। এ সময় পোর্টলিংক লজেস্টিকের লরির কর্মচারীরা রেকারের চালককের উপর হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা রেকারের চালক কনেস্টবল মো. নুরুন্নবীর ডান হাত ভেঙে দেয় এবং  পুলিশের ব্যবহৃত রেকারটিও ভাঙচুর করে। পরে পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা আহত রেকার চালককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে ডিপোর ট্রাক, লরি ও কাভার্ডভ্যানগুলো এলোপাথারিভাবে রাখায় ছলিমপুর থেকে কদমরসুল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম মহাসড়ক যানজট মুক্ত করতে গেলে ডিপোতে থাকা লরির হেলপার ও কর্মচারীরা পুলিশের রেকার ভাংচুর করে। আহত করে রেকারের চালক নুরুন্নবীকে। এ ঘটনায় পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা দেওয়ায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

পোর্টলিংক লজেস্টিক ডিপোর লরি চালক আবদুর রহিম বলেন, গত দুই দিন ধরে ট্রাকের পণ্য আনলোড হয়নি। এছাড়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলো সরে যেতে বাধ্য করায় পুলিশের রেকার চালকের সঙ্গে লরির চালক ও ডিপোর কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। পুলিশের উপর কোন হামলা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।