পাওনা টাকা আদায়ে দেনাদারের বাড়ির দরজায় মরদেহ নিয়ে হাজির হয়েছেন পাওনাদারের পরিবারের সদস্যরা। কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর গ্রামে শনিবার সকাল ১০টার দিকে দেনাদার ইউসুফ মুসল্লির বাড়িতে মরদেহ নিয়ে হাজির হন পাওনাদার মৃত সুনীল দাসের (৫৭) পরিবার। 

লাশ নিয়ে বাড়িতে আসার খবর পেয়ে দ্রুত সটকে পড়েন ইউসুফ মুসল্লি ও তার পরিবারের সদস্যরা। মরদেহেরে সামনে বিলাপ করতে থাকেন মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শত শত মানুষ ভিড় করে ওই বাড়িতে। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এলেও ইউসুফকে না পাওয়ায় দুপুর পর্যন্ত এভাবেই পড়ে থাকে সুনীল দাসের মরদেহ। তবে কলাপাড়ার ইউএনও জানান, বিষয়টি মানবিক। দ্রুত মরদেহ সৎকার ও ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুনীল দাসের স্ত্রী মাদুরী দাস জানান, কয়েক বছর আগে নয় লাখ টাকা দিয়ে তার স্বামী আলীপুরের ইউসুফ মুসল্লির কাছ থেকে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও তাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে সুনীল দাস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এতে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। এ সময় সুনীল দাস জমি বুঝিয়ে না দিলে তার দেওয়া টাকা ফেরত চান ইউসুফ মুসল্লির কাছে। কিন্তু সে জমি বা টাকা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই বছর আগে স্থানীয় লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে ইউসুফ আট লাখ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দুই বছরেও টাকা পাননি সুনীল। এতে টাকার অভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত সুনীল বিনা চিকিৎসায় গত শুক্রবার রাতে বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তাই পরিবারের সদস্যরা টাকা আদায় ও এই মৃত্যুর জন্য ইউসুফকে দায়ী করে সুনীলের মরদেহ তার বাড়ির সামনে রেখে প্রতিবাদ করেন।

লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার মোল্লা জানান, দুই বছর আগে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে সালিশ করেছিলেন। সালিশে ইউসুফ টাকা পাওনার বিষয়টি স্বীকার করে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সাত লাখ টাকা ও ১৫ দিনের মধ্যে নগদ এক লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে একমত হন। কিন্তু আজও টাকা পরিশোধ না করায় সুনীলের পরিবার টাকার জন্য তার মৃতদেহ ইউসুফের বাড়ির সামনে রেখে দেয়। তারা বিষয়টি দেখবেন কীভাবে সমাধান করা যায়।

মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি শোনার পরই তারা ঘটনাস্থলে এসে দু'পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইউসুফ মুসল্লির পরিবার টাকা পাওনার বিষয়টি স্বীকার করে আপাতত কিছু টাকা দিতে রাজি হয়েছে। তাই মৃতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তারা মরদেহ সৎকারের উদ্যোগ নিচ্ছে। আর মৃতের স্বজনরা যদি তাদের কাছে আইনগত সহায়তা চান, তাদের সহযোগিতা করা হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউসুফ মুসল্লি জানান, তার কাছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পাবেন সুনীল দাস। এর আগে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকাও শোধ করা হবে। তবে তিনি পালিয়ে যাননি, এলাকার বাইরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন।

কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, বিষয়টি শোনার পরপরই স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মহিপুর থানা পুলিশকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছেন। মৃতদেহ সৎকারের খরচ প্রশাসন বহন করবে। টাকা পরিশোধের বিষয়টি দু'পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।