অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন আরিফ হোসেন। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অগ্নিদগ্ধ আরিফ হোসেন সোমবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরের অর্ধেকের বেশি অংশ পুড়ে গিয়েছিল।

শ্রীপুরের তেলিহাটী মোড়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন দগ্ধ হন। আরিফ তাদের মধ্যে একজন। 

স্থানীয়রা জানান, ওইদিন তেলিহাটী মোড়ে মোজ্জাম্মেল হকের 'ভাই ভাই স্টোর' থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে বাড়ি নিয়ে যায় একই এলাকার তোফাজ্জল সরকারের ছেলে নাদিম সরকার। বাজার দরের চেয়ে সিলিন্ডারে দাম ৭০ টাকা বেশি রাখার অভিযোগে  তোফাজ্জল সরকার ওই দোকানে এসে মোজাম্মেল ও তার ভাই সাখাওয়াতের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. বিজয় অভিযোগ করেন, টেলিফোন করে ২০-২৫ জন লোক জড়ো করেন তোফাজ্জল সরকার। এক পর্যায়ে মোটর সাইকেল থেকে পেট্রোল বের করে তাদের দিকে ছুঁড়ে মেরে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মোজাম্মেলের ছোট ভাই আরিফ হোসেন, সজীব মিয়া ও  রুবেল হোসেন দগ্ধ হন। 

পরে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তোফাজ্জল সরকার, তার ভাই মোফাজ্জল সরকার, সাইম সরকার, জজ মিয়াসহ বেশ কয়েক জন আহত হন। পরদিন মোজাম্মেল হকের ভাই তোফাজ্জল হোসেন এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর রাতেই দগ্ধদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা  মেডিকেল কলেজের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সজীব মিয়া ও রুবেল হোসেন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও আরিফ হোসেনের অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। অবশেষে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আরিফ মারা যান। 

অন্যদিকে মোফাজ্জল সরকারের পক্ষ থেকেও ৮ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মোফাজ্জল সরকার দাবি করেন তাদের কেউ পেট্রোল ছুঁড়ে মারেনি। বরং দোকানে রাখা পেট্রোলের বোতল তাদের দিকে ছুঁড়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে তার ভাতিজা হাফিজুল সরকার দগ্ধ হয়। সেই আগুনে তারাও দগ্ধ হন।

শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।