অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন আরিফ হোসেন। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অগ্নিদগ্ধ আরিফ সোমবার মধ্য রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান। শ্রীপুরের তেলিহাটী মোড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এক পক্ষ পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে উভয় পক্ষের  চারজন দগ্ধ হন। অমানবিক এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরিফের শরীরের অর্ধেকের বেশি অংশই পুড়ে যায়। 

মঙ্গলবার বিকেলে হাজারও মানুষের ভালোবাসা আর চোখের জলে চিরবিদায় নেন আরিফ। তেলিহাটী ঈদগাহ ময়দানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির অংশ গ্রহণে জানাজা প্রতিবাদ সভায় রূপ নেয়। প্রত্যেকেই হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন। জানাজা শুরুর আগে লাশ সামনে রেখে গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নৃশংসভাবে আরিফকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।

জানা যায়, ওই দিন তেলিহাটী মোড়ে জজ মিয়ার ছেলে মোজ্জাম্মেল হকের ‘ভাই ভাই স্টোর’ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে বাড়ি যান একই এলাকার  তোফাজ্জল সরকারের ছেলে নাদিম সরকার। বাজার দরের চেয়ে সিলিন্ডারে দাম ৭০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগে ফালু সরকারের ছেলে তোফাজ্জল সরকার ওই দোকানে গিয়ে মোজাম্মেল ও তার ভাই সাখাওয়াতের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

মোজাম্মেল হকের ছেলে প্রত্যক্ষদর্শী মো. বিজয় জানান, ঝগড়ার ফাঁকেই টেলিফোন করে মুহূর্তের মধ্যে তোফাজ্জল সরকার ২০ থেকে ২৫ জন লোককে দোকানের সামনে জড়ো করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে পেট্রোল ঢেলে বোতলে ভরে মোজাম্মেল ও সাখাওয়াতকে লক্ষ্য করে দোকানের দিকে ছুঁড়ে মেরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি বিজয়ের। এতে মোজাম্মেলের ছোট ভাই আরিফ হোসেন, সজীব মিয়া ও রুবেল হোসেন দগ্ধ হন। পরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তোফাজ্জল সরকার, তার ভাই মোফাজ্জল সরকার, সাইম সরকার, জজ মিয়াসহ বেশ কয়েক জন আহত হন। পরদিন মোজাম্মেল হকের ভাই তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

তেলিহাটী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল বাতেন সরকার বলেন, ‘পেট্রোল ঢেলে যারা আগুন ধরিয়ে আরিফকে হত্যা করেছে তারা এলাকাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী। আফির নিরীহ একজন মানুষ ছিলেন। এভাবে তাকে মেরে ফেলা কোনোভাবেই মানা যায় না।’

তেলিহাটী ইউনিয়ন আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত ফকির বলেন, পেট্রোল ঢেলে আরিফের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবি করছি। 

শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।