এবারের কোরবানির ঈদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৪০টি দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪৪৭ জন।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য  জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা যাত্রীকল্যাণ সমিতি। 

করোনা সংক্রমণ রোধে ১ জুলাই থেকে ১৪ দিন কঠোর লকডাউন শেষে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে যান চলাচলে আট দিনের জন্য বিধিনিষেধ তুলে নেয় সরকার। 

জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন  ও টিভির খবরের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। 

সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ঈদযাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত এবং ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন। রেল ও নৌ-পথে ২২টি পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যান বিশেষ করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহনের কারণে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যাক মৃত্যু ও দুর্ঘটনা ঘটেছে এবারের ঈদযাত্রায়।  তবে ২৩ জুলাই থেকে 'কঠোরতম' লকডাউন শুরু হওয়ার পর ২৫ জুলাই থেকে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহাণি কমতে শুরু করেছে।  

বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ৮৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৯৩ জনের মৃত্যুে হয়েছে, যা দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যার এক তৃতীয়াংশের বেশি।  এবারের দুর্ঘটনার ২৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে,  ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটেছে। 

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদগুলোতে সরকারের নানা মহলের তৎপরতা থাকায় দুর্ঘটনার লাগাম কিছুটা টেনে ধরা গিয়েছিল। কঠোর লকডাউনে মানুষের যাতায়াত সীমিত ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সরকার সড়কের অবকাঠামোর উন্নয়নে যতটা মনযোগী সড়ক নিরাপত্তায় ততটা উদাসীন। 

দুর্ঘটনার জন্যব বেপরোয়া গাড়ি চলাচলসহ পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। 

দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে আলোক বাতির ব্যবস্থা করাসহ ১০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা শরীফুজ্জামান শরীফ, সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন।