করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, এই সরকার করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন, টেস্ট, চিকিৎসা এবং টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা চিকিৎসা ও টিকা নিয়ে সরকারের অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনাহীনতা ও সমন্বয়হীনতা নৈরাজ্য সৃষ্টি ও দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে। গণটিকা কার্যক্রমকে দলীয়করণ করে প্রতিটি টিকাকেন্দ্রকে করোনা বিস্তারের হট স্পটে পরিণত করা হয়েছে। গণটিকাদান কর্মসূচি গণবিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আবারও উন্মোচিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। তথাকথিত অভিযানের নামে নায়িকা ও মডেলদের চরিত্র হনন ও সল্ফ্ভ্রমহানি বন্ধ, ক্যাসিনো-মাদক ব্যবসা ও পর্নোগ্রাফির পৃষ্ঠপোষক মাফিয়া গডফাদারদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জোটের নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল কস্ফাফী রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য মানস নন্দী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা রুবেল শিকদার প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

নেতারা বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলাসহ সর্বক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, দুঃশাসনে দেশের মানুষ যখন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, তখন এগুলোকে আড়াল করার জন্য নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে সামনে এনে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই নায়িকা পরীমণি, অন্যান্য মডেলসহ নারীদের চরিত্র হনন, সল্ফ্ভ্রমহানি ও নানা কল্পকাহিনি ছড়ানো হচ্ছে।

নেতারা আরও বলেন, নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। অথচ তা না করে রাষ্ট্র-প্রশাসন ও পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত পরীমণিসহ অন্যদের সম্পর্কে মর্যাদাহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে। কিছু মিডিয়ায়ও তাদের সম্পর্কে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণের আগেই পরীমণিসহ অন্যরা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছেন। এতে সমাজে নারীদের সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে এবং নারীকে টার্গেটে পরিণত করতে মৌলবাদী ধর্মান্ধ শক্তির হাতেই অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। যা শেষ বিচারে শোষণমূলক আর্থ-ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে শাসকদেরই লাভবান করবে।

সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব, তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন, মুক্তাঙ্গন ও নূর হোসেন স্কয়ার হয়ে সচিবালয়ের পূর্ব গেটে এলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করা হয়।