একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা এবং 'জজ মিয়া নাটক'-এর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যসংবলিত একটি তথ্যচিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, 'কীভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার, কারা কোথায় পরিকল্পনা করেছিল- এই উত্তরগুলো জানতে দেখুন তথ্যচিত্রে সংযুক্ত জঙ্গি মুফতি হান্নানের সেই স্বীকারোক্তিও।'

শনিবার তার ফেসবুক থেকে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্যচিত্র শেয়ার করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্যচিত্রে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িয়ে কথিত অভিযুক্ত জজ মিয়ার সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে 'জজ মিয়া নাটক' সাজিয়ে ওই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

একই সঙ্গে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত জঙ্গি মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে 'হাওয়া ভবন'-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপি ও জোট সরকারের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, হারিছ চৌধুরী, জামায়াতের তৎকালীন মহাসচিব আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এবং ফ্রিডম পার্টির নেতা কর্নেল নূরের পরিকল্পনায় কীভাবে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাও তুলে ধরেন জয়।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২১ আগস্টের সেই ভয়াবহতা কেমন ছিল, কীভাবে একের পর গ্রেনেডের বিস্ফোরণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লুটিয়ে পড়ছিলেন, সেই সময় পুলিশ কীভাবে হামলাকারীদের পালাতে সাহায্য করেছিল, সেই বিষয়েও কথা বলেছেন সাংবাদিক টিপু সুলতান।

তিনি লিখেছেন, 'তথ্যচিত্রের শুরুর দিকে আপনারা শুনবেন জজ মিয়ার কথা, পরে জানবেন তার মায়ের কথা। কীভাবে প্রকৃত খুনিদের বাঁচাতে জজ মিয়া নাটক অবতারণা করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। জজ মিয়ার মা স্পষ্ট করে বলেছেন সেই সব দিনের কথা। এই তথ্যচিত্রে জানতে পারবেন, গ্রেনেড হামলায় আহত আওয়ামী লীগ কর্মীদের কথা, তাদের মনের না বলা কষ্টের কথা।'

জয় আরও বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটাই প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে দেশের প্রাচীনতম দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে এ রকম ঘৃণ্য পরিকল্পনা করতে পারে একটি জোট, তারা কি এই দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে? বাংলাদেশকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য বানানোই ছিল তাদের এজেন্ডা!'

সব শেষে তরুণ এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বলেন, 'সবাই তথ্যচিত্রটি দেখবেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। বিএনপি-জামায়াত একটি সন্ত্রাসী জোট- এই তথ্যটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদ সব নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আত্মার শান্তি কামনা করছি।'