রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ভবনের নিচতলায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার ভোরে ভবন মালিকের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৫) ও গ্যাসের চুলার মিস্ত্রি সুমন (৪০) এবং বিকেল সোয়া ৩টায় শফিকুলের সৎমা রওশন আরা বেগম (৭০) মারা গেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শফিকুলের মা দগ্ধ রিনা বেগম প্রাণ হারান হাসপাতালে।

পল্লবীর বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় এ নিয়ে মোট চারজনের মৃত্যু হলো। শফিকুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ, তার সৎমায়ের ৮৫ এবং সুমনের শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। দগ্ধ আরও তিনজন বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। তারা হলেন রেনু বেগম (৩৫), নাজনীন আক্তার (২৫) ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে নওশীন।

গত বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ৯ নম্বর লেনের দুই নম্বর বাড়ির নিচতলায় গ্যাসের রাইজার বিস্ফোরণ থেকে আগুন আগে। এতে চারতলা ভবনের নিচতলায় কক্ষের দেয়াল ধসে পড়ে। দগ্ধ হন শিশুসহ সাতজন। ওই রাতেই তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।

শফিকুলের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, যে বাড়িতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটি আমাদের পৈতৃক বাড়ি। ওই বাড়িতেই বাস করি আমরা। গ্যাস বিস্ফোরণ ভাই ও দুই মাকে কেড়ে নিয়েছে। শফিকুল মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন বলে জানান তিনি। রফিকুল জানান, বুধবার তাদের বাড়ির নিচতলায় গ্যাসের রাইজারে পানি ঢুকে যায়। পানি বের করার জন্য তার ভাই তিতাসের স্থানীয় অফিসে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু তিতাস থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে মিস্ত্রি ডেকে সেটি ঠিক করে নিতে বলেছিল। রাত সোয়া ১১টার দিকে মিস্ত্রি সুমনকে দিয়ে সেটি ঠিক করানোর সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।