তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ফিরেছে দেশটির পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। রোববার তথ্যটি জানিয়েছেন দেশটির কর্মকতারা।

গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের পর বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাসহ সব সদস্যরা পদত্যাগ করে।

বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার তালেবান কমান্ডারদের ফোন পেয়ে কাজে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন আফগান পুলিশের দুই কর্মকর্তা। বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছে, গত মাসে তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের পর সেখানকার পুলিশ স্টেশনগুলো থেকে পালিয়ে যান কর্মকর্তাসহ সকল পুলিশ সদস্য। সাবেক আফগান সরকারের নিয়োজিত কর্মী হওয়ায় তালেবান তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন তারা।

রোববার এএফপির একজন প্রতিবেদন স্বচক্ষে কাবুল বিমানবন্দরের পরিস্থিতি দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ টার্মিনালসহ বিমানবন্দরের বাইরের বেশ কয়েকটি প্রধান প্রধান ভবনের বাইরে চেক পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য এএফপিকে বলেন, বাড়িতে ফিরে যাওয়ার দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে শনিবার কাজে ফিরে এসেছি।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, আমি একজন সিনিয়র তালেবান কমান্ডারের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। তিনি আমাকে কাজে ফিরে আসতে বলেছিলেন।

তার ভাষায়, আবার কাজে ফিরতে পেরে তিনি খুব খুশী।

এদিকে, তালেবান বলেছে সাবেক সরকারের পক্ষে করা সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা শাখাসহ সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কাবুল থেকে দুই সপ্তাহের অভিযানে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়। বিশৃঙ্খলপূর্ণভাবে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পর কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়, বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের বিমানের চলাচল। পরে কাতার এবং অন্যান্য দেশের সহায়তা নিয়ে এই বিমানবন্দর সচলে জোর তৎপরতা শুরু করে দেশটির নতুন শাসকগোষ্ঠী তালেবান।

এরপরই তালেবান শাসনাধীনে প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক একটি ফ্লাইট পাকিস্তানের উদ্দেশে কাবুল ছাড়ে। সোমবার বাণিজ্যিক এই ফ্লাইটের চলাচল শুরু হওয়ায় দেশ ছাড়তে মরিয়া আফগানদের জন্য কিছুটা আশা দেখা দিয়েছে।

এএফপি জানিয়েছে, সোমবার পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) একটি বিমান কাবুলে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে ইসলামাবাদে ফিরে গেছে। পিআইএর ওই ফ্লাইটে করে অন্তত ৭০ যাত্রীকে ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; যাদের বেশিরভাগই আফগান এবং তারা বিশ্বব্যাংকের মতো অন্যান্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরতদের আত্মীয়-স্বজন।

বিমানবন্দরে কাজ করা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, শনিবার থেকে বিমানবন্দরের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি এএফপিকে বলেছেন, তালেবানের পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছেন।

এদিকে, আফগান এয়ারলাইন গত সপ্তাহ থেকে ফের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট শুরু করেছে। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সও শিগগিরই ইসলামাবাদ থেকে কাবুল ফ্লাইট শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।