সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- মোহর আলী, ওমর ফারুক, রমজান আলী ও যুগল সরকার। ঢাকা জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নূর হোসাইনকে মারধর করেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে দায়িত্বরত কয়েকজন আনসার সদস্য। এ ঘটনার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করেন।

অবরোধের আধাঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এবং আশুলিয়া থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান সেখানে উপস্থিত হন। তারা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় আনসারের পক্ষ থেকে বহন করা, দোষীদের স্থায়ী বহিস্কার ও গ্রেপ্তার এবং স্মৃতিসৌধে চলমান অনৈতিক কাজ বন্ধ করা।

ঢাকা জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত আনসার সদস্যদের স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কালো তালিকায় রাখা হয়েছে, যাতে অন্য কোথাও চাকরি না করতে পারেন। এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সব খরচ আনসার বহন করবে।

সোমবার বিকেলে ভাগ্নেদের নিয়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঘুরতে যান জাবি শিক্ষার্থী নূর হোসাইন। সেখানে অনৈতিকভাবে অন্যদের প্রবেশ করতে দিলেও তাদের ঢুকতে দেননি আনসার সদস্যরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।