'যুবদের জন্য প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন' শীর্ষক দুইদিনব্যাপী বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ জাতীয় যুব পরিবার পরিকল্পনা সম্মেলন শুরু হয়েছে।

সিরাক-বাংলাদেশ'র উদ্যোগে এবং ফরেইন ও কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস, ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ ইয়ূথ হেলথ এ্যাকশন নেটওয়ার্ক, কোয়ালিশন অব ইয়ূথ অর্গানাইজেশনস ইন বাংলাদেশ, জেপাইগো, পপুলেশন এ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল, পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরো, মেরী স্টোপস বাংলাদেশ, পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর সহযোগিতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে সম্মেলনের পর্দা উন্মোচিত হয়। এবারের সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ভার্চুয়াল অংশগ্রহনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ৭টি প্ল্যানারী সেশন, এবং ৪টি ব্রেকআউট সেশনের সমন্বয়ে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের স্বাস্থ্য অধিকার এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্বে এটিই এ ধরনের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের যুব সম্মেলন।

এ সম্মেলনের ৬ষ্ঠ পর্বে অনলাইন সারাদেশ থেকে ৫ শতাধিক কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করছেন। করোনা মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বন করে সম্মেলনটিতে কেবলমাত্র বক্তারা অনুষ্ঠানস্থালে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং অংশগ্রহণকারীরা বিশেষভাবে নিবন্ধন করে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে যোগ দিচ্ছেন।


নিউজ আওয়ার সম্পাদক ডা. তারেক সালাহউদ্দিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলনের মহাসচিব ও সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। সভাপতিত্ব করেন ডিজিএফপির পরিচালক (এমসিএইচ) ডা. মোহাম্মদ শরীফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কাজী এ কে এম মহিউল ইসলাম, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এর চিফ অব হেলথ ডা. ভিভাভেন্দ্র রাঘুইয়ামসী, পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল এর সিনিয়র কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্যারোলিন ক্রসবি, অ্যাডভান্স ফ্যামিলি প্যানিং এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মারভিন ক্রিশ্চিয়ান ও যুব চ্যাম্পিয়ন মো. নাজমুল হাসান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং সঠিক তথ্য ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সুস্বাস্থ্যময় জাতি গঠন। এ কারণে তরুণদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হারকেও শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। আর তাই পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও তথ্যপ্রাপ্তিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। বক্তারা আরো বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং সেবা পাওয়া সকল কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণীর অধিকার। সেই সঙ্গে তাদের নিজের শরীর সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার পাশাপাশি কিভাবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায় সে সম্পর্কেও সম্যক ধারনা থাকা জরুরি। এই বিষয়ে সকলকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সম্মেলনের প্রথম দিনে পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল, পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরো, পপুলেশন এ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল, আইওয়াইএএফপি সহ বিভিন্ন সংস্থার সেশনে অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্টম্ফূর্তভাবে যোগদান করেন। বুধবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী অধিবেশনে যোগ দেবেন।