সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছরে পদার্পণ করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। আজ শুক্রবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি উদযাপন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন উপাচার্য ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে উদ্বোধন অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অনুভূতি প্রকাশ (ধারণকৃত ভিডিও প্রদর্শন) এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ ও মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গান পরিবেশন করবেন সংগীতশিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপ, নৃত্য পরিবেশন করবেন সামিনা হোসেন প্রেমা।
১৯৪০ সালের দিকে সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংগঠন করার ধারণা দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯২৫ সালের স্নাতক ড. মমতাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পাবলিক ইনস্ট্রাকশন ডিরেক্টর এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। এ ছাড়া অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা আরেক গুণীজন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার খান বাহাদুর নাজিরউদ্দিন আহমেদ। তাদের প্রচেষ্টায় ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। নিবন্ধিত হয় পরের বছর- ১৯৪৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। শুরুতে এর নাম ছিল 'ওল্ড বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন'। পরে নারী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বিচারপতি মো. ইব্রাহিম এবং মহাসচিব মিজানুর রহমান।
অ্যাসোসিয়েশনের ২০০৪-২০১৩ মেয়াদের সভাপতি সৈয়দ মনজুর এলাহী এবং মহাসচিব রকিবউদ্দিন আহমেদের কমিটির নেতৃত্বে ২০০৪ সালে নিজস্ব অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০০৭ সালে অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের নিচতলায় ১৬ হাজার বর্গফুটের কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এটি সবার কাছে 'অ্যালামনাই ফ্লোর' নামে পরিচিত। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এ. কে. আজাদ এবং মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন রঞ্জন কর্মকার।
অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকাণ্ড :সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি বিভাগ ও ১৬টি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৭০০টি বৃত্তি দেয় সংগঠনটি। এ ছাড়া, অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বই ও স্মারক প্রকাশ, সেমিনারসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার অহংকার; এখনই সময় দায় মোচনের'- এই স্লোগান সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে এ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ নিজের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করে সমকালকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা এবং শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে সবাই। সে স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার সেই স্বপ্নগুলো একে একে পূরণ করে যাচ্ছেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে আমার প্রত্যাশা, জাতির পিতার স্বপ্নগুলো পূরণের জন্য ঢাবি অ্যালামনাইদের যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই কাজ করে যাবেন।
মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অন্যান্যবারের চেয়ে আলাদা। কেননা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ। দেশের যে কোনো ক্ষেত্রের উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে। এই অবদানকে সামনে নিয়ে এসেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের শ্রমে, তাদের মেধায় এবং তাদের রক্তে আজকের এই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ আমাদের দেশে একটি ঈর্ষণীয় উন্নয়ন হচ্ছে। সেই উন্নয়নের নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে মানবসম্পদ তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সহায়তা করার আহ্বান জানান।