জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। মেয়রের পদত্যাগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নগরের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, মেয়র জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে কথা বলেছেন।

তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ অতিউৎসাহী হয়ে তার বক্তব্য ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভাইরাল করেছে। তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তার ওপর এ অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া অবিচার দাবি করে মেয়র বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। জাতির পিতাকে আমি কখনও কটূক্তি করে কথা বলতে পারি না।' যারা তার কথা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ওই ভিডিও এডিট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও এক ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন মেয়র।
বৃহস্পতিবার মহানগরের টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন, টঙ্গী কলেজের সামনে, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, গাজীপুর শহরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মেয়র জাহাঙ্গীরের ছবিতে অগ্নিসংযোগ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষোভ করেন তারা। বুধবারও বোর্ডবাজার এলাকায় কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের নেতৃত্বে মেয়রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়।

টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সরকার বাবু বলেন, শুধু মেয়র নন, যে কেউ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিয়ে এমন কটূক্তি করলে সেটা আমরা মেনে নিতে পারি না। ৩০ লাখ শহীদকে নিয়ে বাজে মন্তব্য আমরা সহ্য করব না। আন্দোলন চলছে, চলবে। তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি যদি এডিটিং হয়ে থাকে, তাহলে মেয়র নিজ দায়িত্বে সেটা প্রমাণ করবেন।

মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন আহমেদ শান্ত বাবু বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর কখনও এমন কটূক্তি করতে পারেন না। ভিডিওটি দেখেই বোঝা যায়, ওটা এডিট করা। যারা এডিট করে ভিডিও ভাইরাল করেছে, তাদের বিচার দাবি করে শান্ত বাবু বলেন, তারাই জাতির পিতাকে অবমাননা করেছে। মেয়রের জনপ্রিয়তায়  হিংসা করে তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এটা মেয়রের প্রতি অবিচার।
টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী মনজুর বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়; ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মেয়র জাহাঙ্গীর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লা খান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে নিয়েও অপমানজনক ভাষায় কথা বলেছেন। এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। মেয়রকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান কাজী মনজুর।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ নয়ন বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীর সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করছেন। জাতীয় শোক দিবসে তিনি প্রতি বছর একশ করে গরু বিলিয়ে দেন মানুষকে খাওয়ানোর জন্য। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য শত শত দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। অথচ তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করার অভিযোগ সত্যি বেমানান। রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ ফায়দা নেওয়ার জন্য ওই ভিডিও তৈরি করে মেয়রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মেয়র কখনোই এমন কথা বলতে পারেন না। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজেও এটাকে গভীর ষড়যন্ত্র দাবি করে বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেছেন। সমকালকে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করেন। সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করব বলে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।

মেয়র বলেন, গাজীপুরকে একটি গ্রিন সিটি হিসেবে উপহার দেব বলে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমি সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই বিরামহীন হেঁটে চলছি। ২২০ কোটি টাকা ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। আর সেখানে এ বছর ২১ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছি। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়ে প্রায় ৮শ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার এবং ২৫০ কিলোমিটার ড্রেন তৈরি করেছি। অনুন্নত ও অপরিকল্পিত এ শহরকে পরিকল্পিত নগরে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছি। গাজীপুরকে যখন একটি রোল মডেল বানানোর কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি, ঠিক তখন রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অসত্য-বানোয়াট ওই ভিডিওতে আমার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে গাজীপুর সিটির অর্ধকোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত দেওয়া হয়েছে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ।
মেয়র বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রের জাল যারা ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির জন্য সুপরিকিল্পতভাবে ওই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।