টাঙ্গাইলের মধুপুরের এক যুবক ঘাটাইলে গিয়ে আটক হওয়া এড়াতে পালানোর সময় পুকুরে পড়ে মারা গেছেন বলে ডিবি পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ বলছে, ওই যুবক মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মধুপুর থেকে ঘাটাইলে মাদক বিক্রি করতে যান। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই যুবকের বিরুদ্ধে মধুপুর বা ঘাটাইল থানায় কোনো মামলা নেই। এমনকি পরিবার-প্রতিবেশীরাও তার মাদক ব্যবসার বিষয়ে কিছু জানেন না।

ওই যুবকের নাম আবু বকর সিদ্দিক (২৫)। তিনি মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের ভবানীটেকি গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে।

ডিবি পুলিশের টাঙ্গাইল দক্ষিণের ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘাটাইলের গৌরাঙ্গীর কোলাহা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী দুলালকে দিয়ে ফাঁদ পেতে গাঁজা কেনার কথা বলে সিদ্দিককে ঘাটাইলে ডেকে নেওয়া হয়। সিদ্দিক এক কেজি গাঁজাসহ বন্ধু মিলনকে নিয়ে সেখানে যান। দুলালের বাড়িতে ঢুকতেই পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে মোটরসাইকেল রেখে পালাতে গিয়ে পুকুরে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিদ্দিকের বন্ধু মিলনকে আটক করা হয়েছে। মিলন পীরগাছা গরমবাজার এলাকার আয়নাল হকের ছেলে।

তবে সিদ্দিকের বাবা আব্দুল বারেক জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তার ছেলে নিখোঁজ ছিল। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। শুক্রবার সকালে ডিবি পুলিশ ফোন করে তার ছেলে অসুস্থ বলে জানায় এবং তাকে নিয়ে আসতে বলে। পরে তিনি সিদ্দিকের মৃত্যুর খবর পান। সারাদিন থানা-পুলিশ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘাটাইল থানার মাধ্যমে সিদ্দিকের লাশ পান। তিনি, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মালেক ও মির্জাবাড়ী ইউপি সদস্য তোতা মিয়া লাশ গ্রহণ করে ঘাটাইল থানা থেকে মধুপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাড়ি নিয়ে যান। রাত আড়াইটার দিকে ভবানীটেকি গ্রামে পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে সিদ্দিকের লাশ দাফন করা হয়। মৃতদেহে জখম দেখতে পেয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘাটাইল থানার ওসি আজাহার আলী জানান, এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় মাদক ও অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানেন না জানিয়ে মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তাদের থানায় কোনো মামলা নেই।