বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসা ইতিহাসের নতুন বাঁক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ১৯৮৪ সালে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন 'এই সংসদ জনতার'। গণতন্ত্র ও গণমানুষের সমর্থনের প্রতি অগাধ বিশ্বাসই তার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সিইউবি) আয়োজিত 'বাংলাদেশ :উন্নয়নের এক যুগ' শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্পিকার এসব কথা বলেন। সিইউবির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, কানাডার হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন এবং সিইউবি বোর্ড অব ট্রাস্টির চিফ অ্যাডভাইজার অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

এর আগে কেক কাটার মাধ্যমে 'শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের যাত্রাপথ, তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, বিচক্ষণ কূটনীতি নিয়ে তিন দিনব্যাপী প্র্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্পিকার।
শিরীন শারমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক দুর্গম সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। ছেলেবেলায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম থেকে শুরু করে তার শিক্ষাজীবন, বৈবাহিক জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনীতিতে আসা, আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন, অনেক গবেষণালব্ধ বিষয় এই প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ইতিহাসকে ভিন্ন পথে পরিচালিত ও স্বাধীনতার চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। ১৯৮১ সালে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা। তখন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। বাংলার মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

কানাডার হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের অনেকে কানাডায় বসবাস করেন এবং অনেক কানাডিয়ান বাংলাদেশিদের সম্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশকে কানাডা সবসময় বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে মনে করে। তিনি বলেন, এই দেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার সম্পর্কে জানতে পেরে তার অনেক ভালো লাগছে। দুই দেশ একযোগে কাজ করে আরও এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।