রাজধানীর চাঁনখারপুলে মাসুদ আল মাহাদী অপু নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে সেখানকার 'স্বপ্ন ভবন'-এর আট তলায় ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে চকবাজার থানা পুলিশ। অপু বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন অপু। থাকতেন মাস্টার দা সূর্যসেন হলে। গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়।

একই ভবনে থাকেন অপুর বন্ধু সাঈদ। তিনি বলেন, 'দুপুর বারোটায় স্কচটেপ আনতে অপুর রুমে যাই। তখন দরজা খোলা ছিল। দেখি ও শুয়ে মোবাইল টিপছে। বললাম, এতোক্ষণ ঘুমিয়ে আছিস কেন? সে বলে, কাল রাতে ভালো ঘুম হয়নি তাই ঘুমে আসছে।’

'এরপর স্কচটেপ নিয়ে আমার রুমে এসে কাজ শেষ করে আবার  গিয়ে দিয়ে আসি'- বলেন সাঈদ। তিনি বলেন, 'পরে দুইটার দিকে তার রুমমেট আমাকে ডাকে বলে, অপু ভাইয়ের কি যেন হয়েছে। এসে দেখি এই অবস্থা। তারপর দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি সে ঝুলন্ত। পরে মালিক, ম্যানেজারকে জানাই। সবাই মিলে দরজা ভাঙলাম। আমরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।'

অপুর রুমমেট জহিরুল ইসলাম বলেন, 'দুইটার দিকে লাঞ্চে এসে রুম বন্ধ দেখি। ফাঁক দিয়ে শুধু হাতটা দেখা যাচ্ছিল। বাড়ির ম্যানেজারসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। পরে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ফেলি। ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে ওনাকে উদ্ধার করে।'

জহিরুল জানান, অপু গেল রাতে একটা চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন, পড়ালেখাও করেছেন রাত ১টা পর্যন্ত। আত্মহত্যা করার পেছনে কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলান রব্বানী বলেন, 'পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।'

ডিএমপির লালবাগ জোনের ডিসি জসীম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ‌'রুমমেটরা বলছেন আত্মহত্যা। তবে আমরা লাশের সুরতহাল করছি।' তিনি আরও বলেন, 'সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সহপাঠীরা জানান, অপু ছিলেন অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয়। অনার্স ও মাস্টার্সে ভালো রেজাল্ট করা অপু কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেন। চাকরি ছেড়ে দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিসিএসের। ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

অপুর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানায়। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ। তার বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরাও শোক জানিয়েছেন।