আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল বাংলাদেশের সামাগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান তালেবানদের সমর্থন করে। পাকিস্তান অনবরত জঙ্গি রফতানি করে আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী রাস্ট্রে পরিণত করেছে। ফলে সামগ্রিক বিবেচনায় ভবিষ্যতে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত দেশ হবে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পুনরুত্থান: তরুণ সমাজের করণীয়' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আইটি সেল এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার এবং প্রধান বক্তা ছিলেন নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। সংগঠনের আইটি সেলের সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়ের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অমি রহমান পিয়াল, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, বহুভাষিক সাময়িকী 'জাগরণ'-এর যুগ্ম সম্পাদক মারুফ রসুল, সংগঠনের নিউইয়র্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আজম খান, সংগঠনের বগুড়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সমাজকর্মী মতিউর রহমান মর্তুজা, কলকাতার আইনজীবী সালমান আখতার, 'জাগরণ'-এর হিন্দি বিভাগীয় সম্পাদক তাপস দাস, সমাজকর্মী মামুনুর রশিদ এবং সংগঠনের মানিকগঞ্জ শাখার ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি রিক্তা রিতু।

প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পুনরুত্থান আমাদের রাস্ট্রীয় নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক জনকল্যাণমূলক প্রচারের ক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিকল্প নেই, আবার জঙ্গিবাদী বিভিন্ন অপরাধের বিস্তার ঘটছে এসব প্ল্যাটফর্মে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ও রাজনৈতিক ভাবে অনলাইনে তালেবানি শক্তির কঠোর মোকাবেলা করা না হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি জঙ্গিবাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করার। আমরা যদি সকলে মিলে রাস্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশকে তালেবানিকরণ করার ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে না পারি তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রচেস্টা ব্যর্থ হবে।

প্রধান বক্তা শাহরিয়ার কবির বলেন, আফগানিস্তানে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী তালেবানদের অবৈধ ক্ষমতা দখলে বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি মৌলবাদী তালেবানপন্থীরা নবরূপে আত্মপ্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে। এখনই যদি তা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা না হয় ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য সমুহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে। তিনি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং একটি নীতি নির্ধারণীসুলক জাতীয় কমিশন গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, উগ্রবাদী তালেবানের উদারপন্থী মুখোশ খুলে পড়েছে এবং সেই সঙ্গে তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসীদের অস্ম্ফালন বেড়ে গেছে। দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশী উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বিশেষ করে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে অপদস্ত করার প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে সরকার ও নীতি নির্ধারকদের সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

অমি রহমান পিয়াল বলেন, মৌলবাদী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দিন দিন একাট্টা হয়ে শক্তি বাড়াচ্ছে, আর আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্বল হচ্ছি। মনে রাখতে হবে অনলাইনই হবে ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার, শেষ ও চূড়ান্ত যুদ্ধ এখানেই।