বারবার ট্রাফিক পুলিশের মামলার শিকার হয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়ে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের চালক শওকত আলী সোহেল নিজের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দিলে অনেকেই তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সোমবার মোটরসাইকেল পোড়ানোর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার ঘোষণাও দেন অনেকে। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউই সহায়তার হাত বাড়াননি, যোগাযোগও করেননি শওকতের সঙ্গে। রাগ, ক্ষোভ আর প্রতিবাদে এই চালক নিজের আয়ের শেষ সম্বলটুকু ধ্বংস করে দিলেও এখন তিনিও জানেন না, তার সংসার চলবে কী করে?

মঙ্গলবার শওকত আলীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি সমকালকে বলেন, তিনি রাগের মাথায় একটা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন। রাস্তায় নামলেই পুলিশ নানা অজুহাতে মামলা দেয়, নিজের গাঁটের টাকায় জ্বালানি কিনে দিনভর গাড়ি চালিয়ে ৩০ শতাংশ টাকা দিয়ে দিতে হয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিকে। এর ওপর ট্রাফিক পুলিশের মামলার টাকা দিতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যায়। এজন্যই তিনি প্রতিবাদে নিজের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেন।

তিনি বলেন, তখন অনেকেই বলেছিলেন মোটরসাইকেল কিনে দেবেন। সোমবার কেউ কেউ যোগাযোগও করেছিলেন সহায়তার জন্য; কিন্তু কারও কোনো সহায়তা পাননি। কেউ আর যোগাযোগও করেনি।

সোমবার সকালে রাজধানীল বাড্ডা লিংক রোডে শওকতের মোটরসাইকেলটি আটক করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। ওই সময়ে তিনি মামলা না দেওয়ার জন্য অনুনয় করেন। পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিজেই নিজের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন।

ট্রাফিক পুলিশের বাড্ডা ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার সুবীর রঞ্জন দাস সমকালকে বলেন, ওই চালক যেটা করেছেন, সেটা অন্যায়। তবুও মানবিক কারণেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর ওইদিন তার বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হয়নি। শুধু রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকায় তার কাগজপত্র যাচাই করতে নেওয়া হয়েছিল।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার ওই ঘটনার পর পুলিশ তাকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাড্ডা থানা ও গুলশান বিভাগের ডিসির অফিসে নিয়ে আটকে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ দাবি করেছেন, ওই চালকের বিষয়ে তথ্য নিতেই তাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, তিনি কেন এমন কাণ্ড করলেন। কথা বলে মনে হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তা ছাড়া তিনি নিজেই কথা বলার জন্য ডিসি অফিসে গিয়েছিলেন।