ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিভাগীয় অফিসে সক্ষমতার চেয়ে ই-পাসপোর্টের বেশি আবেদন জমা পড়ায় ছবি ও আঙুলের ছাপ নিতে দীর্ঘ সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী। এজন্য পাসপোর্ট সরবরাহেও বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত পাসপোর্ট পেতে নিজ নিজ এলাকায় ই-পাসপোর্টের আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার পাসপোর্ট বিটে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের সংগঠন 'পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআইআরএফ) নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা হয়।

ডিজি বলেন, দেশে ৭২ টি পাসপোর্ট অফিসের মধ্যে শুধু আগারগাঁও অফিসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন বেশি জমা হচ্ছে। দৈনিক সক্ষমতার কয়েকগুন বেশি আবেদন জমা হওয়ায় ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছাপ নিতে লম্বা শিডিউল দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা আবেদন করেও এক থেকে দুই মাস পর আবেদন কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। কিন্তু উত্তরা, যাত্রাবাড়ীসহ দেশের অন্য বিভাগীয় এবং আঞ্চলিক অফিসগুলোতে সে চাপ নেই। আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই আনুসঙ্গিক কাজ করতে পারায় এসব অফিসে শিডিউলও নিতে হচ্ছে না। এজন্য পাসপোর্টও দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।

অনেকের তথ্যগত ভুলের জন্যও মেশিনে অটোমেটিক পাসপোর্ট আটকে থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্যও সরবরাহে বিলম্ব হয়। ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চললেও মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও জানান তিনি। বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাত্র ৫টিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করা গেছে। তাই অন্য দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের এমআরপি দিতে হচ্ছে।

পিআইআরএফ নেতারা পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি, হয়রানিসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ডিজি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতয় থাকলেও প্রতিনিয়তই সেবার মান উন্নত হচ্ছে। অনেকে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করায় ভোগান্তিতে পড়ছেন। সে দায় চাপছে অধিদপ্তরের উপর। এজন্যই ফরম পূরনসহ নানা কার্যক্রম চালাতে নির্ধারিত এজেন্ট থাকার বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনাও করেছিলেন।

রোহিঙ্গারা যেন পাসপোর্ট না পায় সে বিষয়ে অধিদপ্তর সর্তক রয়েছে জানিয়ে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী বলেন, গত এক বছরে তথ্য গোপন করে কোনো রোহিঙ্গা পাসপোর্ট করতে এসেছিল-এমন তথ্য নেই।

মতবিনিময় সভায় ডিআইপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেলিনা বানু, পরিচালক শিহাব উদ্দিন খান, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক কর্নেল নূর উজ সালাম, উপপরিচালক (প্রশাসন) ইসমাইল হোসেন, উপপরিচালক (অর্থ) আল আমিন মৃধা, পিআইআরএফ সভাপতি আছাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সহসভাপতি জামিউল আহসান সিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক নেহাল হাসনাইন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জামিল খান ও অর্থ সম্পাদক উজ্জল জিসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।