প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। রোববার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিমের একটি দল এই অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলো- আব্দুস সাত্তার (৫২), আলী হোসেন (৪০), শাহাদাত হোসেন (৫৫), মো. মোস্তফা (৬২) ও জামাল হোসেন (৫০)।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ভুয়া নিয়োগপত্র, মোবাইল ফোন, কয়েকজন শিক্ষকের চাকরি এমপিওভুক্তির আবেদনসহ চাকরিপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত, ছবিসহ অন্যান্য কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। এ সময় সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, এই চক্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দেবে বলে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সৈনিক পদের এবং কয়েকজনকে অফিস সহকারী পদের ভুয়া নিয়োগপত্রও দেয় তারা। পরে নিয়োগপত্র নিয়ে প্রার্থীরা কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্রগুলো ভুয়া বলে জানায়।

তিনি বলেন, এভাবে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ওই চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সিআইডিকে জানালে চক্রের ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।\হগ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আদেশের কপি জাল করত। জনপ্রতি আট থেকে ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে ১১ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আরও কয়েকজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল চাকরি পাওয়ার জন্য।
সিআইডি কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার এই চক্রটির কয়েকজন সেনানিবাসে কনস্ট্রাকশনের কাজ করেছিল। এর পরই তারা চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার পাশাপাশি বিট কয়েন বেচাকেনার নামে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল। ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হয়। এতে কোথাও টাকা দিতে হয় না। কিন্তু নানা চক্র সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করে। ভুক্তভোগীরা চাকরি না পেয়ে টাকা দাবি করলে উল্টো তাদের নানাভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়।