সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন ঈশিতা ইয়াসমিন সিমি (১৯)। দুই মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাকে পড়ালেখায় ফেরাতে বকাঝকা করেছিলেন মা নার্গিস বেগম। এতেই অভিমানী মেয়ে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়।

ঈশিতা রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গত শনিবার নিউমার্কেট এলাকায় গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের কোয়ার্টারের বাসায় তিনি নিজের শরীরে আগুন দেন। এরপর থেকেই ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল সমকালকে জানান, মেয়েটির শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা যান।

ঈশিতার চাচা মিজানুর রহমান জানান, ঈশিতা পড়ালেখায় মনোযোগী না হয়ে শুধু ফেসবুক চালাতেন। এজন্য শনিবার রাতে মা নার্গিস বেগম তাকে শাসন করেছিলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হতে বলেছিলেন। তাতেই অভিমানী হয়ে উঠল মেয়েটি! ওই রাতেই সবার অজান্তে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিষয়টি তারা যখন টের পান, তখন বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল।

ঈশিতার মৃত্যুর খবরে বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে ছুটে আসেন তার বান্ধবীরাও। তাদেরই একজন মারজান মেহজাবিন বলেন, ঈশিতা একটু বেশিই অভিমানী ছিল। যতটুকু জানতে পেরেছি পড়ালেখার বিষয়ে সে একটু দুশ্চিন্তায় ভুগছিল। হয়তো এই কারণেই এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ঈশিতা দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তার বাবা মো. ইদ্রিস গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে কম্পিউটার অপারেটরের পদে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের নোয়াগাঁও এলাকায়।