পারিবারিক কলহ আর দাবি করা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী স্বর্ণা বেগমকে (৩৫) গরম তেল নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল সুজন মিয়া (৩৮)। ঘটনার প্রায় ১৯ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। গত মঙ্গলবার রাতে জামালপুর থেকে ঢাকার সিআইডি সুজনকে গ্রেপ্তার করে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বর্ণার শরীরে গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যায় সুজন। এর ১২ দিন পর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান স্বর্ণা। ওই ঘটনায় তার মা আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, পারিবারিকভাবেই ওই দু'জনের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তারা গ্রামের বাড়ি জামালপুরে থাকতেন। কিন্তু স্বামী সুজন যৌতুকের জন্য স্বর্ণাকে নির্যাতন করে আসছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একবার যৌতুকের মামলায় গ্রেপ্তার হলেও পরে পারিবারিকভাবে সমঝোতা হয়।

পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, এর পরও সুখ আসেনি স্বর্ণার সংসারে। সুজন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে স্বর্ণা সন্তান নিয়ে সিরাজগঞ্জে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টে চাকরি নেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্বামী আশুলিয়ার বাসায় আসে। ওইদিন আবার তারা ঝগড়া করেন। একপর্যায়ে স্বর্ণার গায়ে গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যায় সুজন।

সিআইডি জানায়, স্বর্ণার মামলায় সুজন জেল খেটেছিলেন। এর পর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে স্বর্ণা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এ জন্যই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে সুজন। ওই দম্পতির ১১ বছর বয়সী ছেলে ও দুই বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।